স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু নিয়ে রহস্য, স্বামী হাজতে

কাজী তানভীর মাহমুদ,স্টাফ রিপোর্টার:
রাজবাড়ী জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নে পূরবী ইসলাম (৪৫) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকার স্বামী ও কোলা সদর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।

শুক্রবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পূরবীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পূরবী ইসলাম সদরের কোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। শনিবার (৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানে পারিবারিক সদস্য ও শিক্ষক সমিতির নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন।

ওই শিক্ষিকার ছোট ভাই মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার বোন প্রায় দুই যুগ ধরে শিক্ষকতা করে। আমার ভাগ্নে অর্ণব মাদকাসক্ত। সে মাদকের টাকার জন্য তার মায়ের ওপর নির্যাতন করতো। বোনের স্বামী ফরহাদ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে অন্য নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত বলে জানি। এ নিয়ে ফরহাদ আমার বোনকে মাঝে মধ্যে মারধর করতো। তাদের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। ঘটনার দিনও আমার বোনকে অনেক শারীরিক নির্যাতন করে তারা। আমার বোন কিছুতেই আত্মহত্যা করতে পারে না। আমাদের দাবি আমার বোনকে তার স্বামী ও ছেলে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। ’

তার বোন লিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে তার স্বামী ও ছেলে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমরা আমাদের বোন হত্যার বিচার চাই। ’

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজবাড়ী জেলা কমিটির সভাপতি শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের সহকর্মী শিক্ষিকা পূরবী ইসলাম অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন। তার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। তার মৃত্যু নিয়ে আমরা সন্দিহান। আমাদের ধারণা তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মানিক বলেন, আমারা জেনেছি শিক্ষিকা পূরবীর পারিবারিক কলহ ছিল। তার ছেলে ও স্বামী তাকে মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন করতেন। তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।

বালিয়াকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি ও স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করছি। শিক্ষিকার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।

রাজবাড়ী সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিফাত হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। পরে পূরবী ইসলামের আপন ভাই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে তার বোন জামাই ফরহাদের নামে মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ফরহাদকে জেলহাজতে পাঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.