পাংশায় বিসমিল্লাহ টাওয়ার নির্মানে উচ্ছেদ আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা,৩৩৯নং দাগে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা

কাজী তানভীর মাহমুদ,স্টাফ রিপোটার:
রাজবাড়ী জেলার পাংশা পৌর শহরে নির্মান হচ্ছে বহুতল ‘ বিসমিল্লাহ টাওয়ার সাহেরা প্লাজা’। মার্কেটের ৫৮.৬৭ শতাংশের জমিটি পাংশার অর্ন্তগত মৌজা নারায়নপুর মধ্যে এস এ ৯৯ এবং ১০১নং খতিয়ানভূক্ত এস এ ৩৩৯,৩৪০,৪১,৩৯২ দাগে রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৯নং দাগের জমিতে আগে থেকে থাকা ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক উচ্ছেদ আতঙ্কে পরেছেন। ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরই আদালত থেকে ৩৩৯নং দাগে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

পুরাতন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে পাংশা মালেক মিঞা অ্যাভিনিউয়ের ওই জমির পজিশন বিক্রি করা হয়। স্থানীয় ১৪ ব্যবসায়ী পজিশন কিনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। পজিশন কেনার দলিলও আছে বলে তারা দাবী করেছেন। ফটোকপি, স্টেশনারি, খাবারের হোটেলের দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন তারা। কয়েক সপ্তাহ আগে ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন জমির মালিকানার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন মালিক বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন। তাদের উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে।

এরপর পাংশা সহকারী জজ আদালতে ৩৩৯নং দাগে নির্মাণ কাজ নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে মামলা করেন পুরাতন ব্যবসায়ীরা। ২৭ মার্চ আদালতের বিচারক ব্যবসায়ীদের পক্ষে স্থিতাবস্থার রায় দেন। রায়ে ৩৩৯নং দাগে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাংশা পৌর শহরের সাব রেজিস্ট্রি অফিসের বিপরীত পাশে মালেক মিঞা অ্যাভিনিউ। রাস্তার পাশ দিয়ে টিনশেডের বিভিন্ন ধরনের দোকান। দোকানগুলোর এক পাশে একটি বড় সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে। এতে লেখা রয়েছে ‘বিসমিল্লাহ টাওয়ার সাহেরা প্লাজা’। ওই নামেই দোকানগুলোর পেছনে ৩৩৯ নং দাগ বাদ রেখে বাকি অংশে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। কয়েকজন শ্রমিক সেখানে কাজ করছেন। দুটি খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে মাটি খনন চলছে।
৩৩৯ নং দাগের জমিতে থাকা খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম ইকু বলেন, আমি ১৫ বছর আগে জমির পজিশন কিনেছি। এখানে বর্তমানে রাধুঁনি নামে খাবারের হোটেলের ব্যবসা করি। এখন জানতে পেরেছি যে জমির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। তাই হোটেল সরিয়ে নিচ্ছি।

ফটোকপি ব্যবসায়ী এ এক এম আব্দুল আলি বাবুলু বলেন, আমি অনেক বছর আগে পজিশন কিনেছি। এখন জমির দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। নতুন মালিক আমাদের পজিশন থেকে উচ্ছেদ করে দিতে চাচ্ছেন। তারা দেশের আইন-আদালত মানছেন না। আমরা সবাই খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। জমির নতুন মালিক বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন বলে আগের ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন।

গ্রাম্য চিকিৎসক সুশান্ত কুমার নাগ নামের এক পল্লী চিকিৎসক বলেন, এই জমির পজিশন আমি কিনেছি। পল্লিচিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু এখন আমরা সবাই উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছি। এখান থেকে উচ্ছেদ হয়ে গেলে এই বয়সে কোথায় গিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দাঁড়াবো।
আরেক ব্যবসায়ী পরিতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, আমাদের উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে। আমরা কোথায় যাব, কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। উপায় না দেখে আদালতে গিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জমির নতুন মালিক পক্ষের একজন মনিরল ইসলাম বলেন, মার্কেটের ৫৮.৬৭ শতাংশের জমিটি পাংশার অর্ন্তগত মৌজা নারায়নপুর মধ্যে এস এ ৯৯ এবং ১০১নং খতিয়ানভূক্ত এস এ ৩৩৯,৩৪০,৪১,৩৯২ দাগে রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৯নং দাগের জমিতে আগে থেকে থাকা ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মামলা দায়ের করেছেন। ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরই আদালত থেকে ৩৩৯নং দাগে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মামলা দায়ের করার পর পুলিশ এসেছিল। তারা সরেজমিনে দেখে গিয়েছে। আমরা আদালতের আদেশ মেনে তাদের দোকানের স্থানে কোনো কাজ করছি না। জমিটি মোট তিন দাগে। আমরা নিষেধাজ্ঞার ৩৩৯ নং দাগ বাদ রেখে অন্য দাগে কাজ করছি। আমরা আইন ও আদালতের উপরে শ্রদ্ধাশীল।

আইনজীবী স্বপন কুমার সোম জানান, নির্মাণকাজের ব্যাপারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.