ফরিদপুরের সালথায় তিন গ্রামের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ১৫

মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুর:
ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মহিলাসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ১০টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে সালথা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত থেকে শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার গট্টী ইউনিয়নের মোড়হাট-আগুলদিয়া-জয়ঝাপ গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য দলাদলি ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে আগুলদিয়া গ্রামের শাহজাহান খান ও আনোয়ার খানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিবোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোড়হাট গ্রামের মোড়হাট বাজারে শাহজাহান খানের সমর্থক আইয়ুব ঠাকুরের সহযোগী কসিম মৃধাকে আনোয়ার খানের সমর্থকেরা মারধর করা কে কেন্দ্র করে নিজেদের গ্রাম্য দলের শক্তি জানান দিতে উভয় গ্রুপের শতশত লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা, শরকি, টেটা ও ইটের টুকরো নিয়ে স্থানীয় মাঠের মধ্যে জড়ো হয়।

এরপর রাত ৮টার দিকে মোড় হাট এলাকায় প্রায় ৩ ঘন্ট ব্যাপী সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তারা। পরে ভোর রাতেও সেহরীর সময়ে দুপক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।

এদিকে ভোরের আলো ফোটার পর ঝয়ঝাপ ও আশুলদিয়া গ্রামের লোকজনও সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত দফায় দফায় করে এ সংঘর্ষ।

শাহজাহান খান বলেন, আমি এলাকায় ছিলাম। আমি শুনেছি আমার সমর্থক কসিম মৃধাকে গতকাল সন্ধ্যায় মারধর করে। তারপর তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এসময় আমার প্রায় ১০ জন সদস্য আহত হয়েছে। হামলা কারীরা আমার বসত বাড়িতেও হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।

খবর পেয়ে সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সংঘর্ষকারীদের ইটের আঘাতে ও হামলায় মহিলাসহ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ১৭ জন আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান লাবলু জানান, খবর পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি লোকজন নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। আগুলদিয়া গ্রামের শাজাহান খান ও আনোয়ার খানসহ কয়েকটি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে সালথা থানার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোন্তাছির মারুফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও ১টি সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.