ফরিদপুরে বাঁশের খুটিতে বিদ্যুত সংযোগ

মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুরঃ
কোথাও মেহগনি গাছ আবার কোথাও বাঁশ গাছ হচ্ছে বিদ্যুতের খুঁটি। বাঁশ, মেহগনি গাছের সাথে বিদ্যুতের তার জুরে সংযোগ দেয়া হয়েছে বাড়ি বাড়ি।
এমনটাই দেখা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের মেঘচামী গ্রামে বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রায় শতাধীক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে তাদের ঘর আলোকিত করা হয়েছে। আবার শতাধীক পরবারকেও জীবনের ঝুঁকিতে রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলে যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এরাকাবাসী।

সরেজমিন দেখা গেছে মেগচামী ১ নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া খানবাড়ী থেকে মধ্যপাড়া গোরস্থান মডেল বাজার এলাকায় মেহগনি সহ বিভিন্ন গাছ ও বাঁশের ঝাড়ের মধ্য দিয়ে ঝুকিপূর্ণভাবে সংযোগ দিয়েছে (ডাব্লিউ জেড পিডিসি এল) রাজবাড়ী অফিস।

দেখা যায়, বৈদ্যুতিক খুঁটি না বসিয়ে বাঁশ ও গাছের ডালে বিদ্যুতের তার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে তারের ভাড়ে বাঁশগুলো হেলে পড়েছে। কোথাও বা হেলে থাকা বাঁশ আরও একটা বাঁশ দিয়ে ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। রাস্তার আশেপাশের মেহগনি গাছের সাথেও বিদ্যুতের তার পেচিঁয়ে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। কোথাও আবার তারে লতাপাতা জড়িয়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

এক কিলোমিটারের কিছু বেশি এলাকাজুরে রাস্তায় বসানো বাঁশের খুঁটিতে ভরসা করেই প্রায় শতাধীক বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের খুঁটির জন্য চেষ্টা করছিলেন । কিন্তু খুঁটির ব্যবস্থা না করে কর্তৃপক্ষ বাঁশ বসিয়ে সংযোগ দিয়েছে।

মেগচামী এলাকার বাসিন্দা হারুন মন্ডল বলেন, আমার বাড়ির সামনে একটি সিমেন্টের খুটি ছিল সেটি ভেঙ্গে যাবার পর অফিসের লোক এসে মেহগনি গাছের সাথে বিদ্যুতের তার পেচিঁয়ে রাখছে, আমরা খুটি লাগাতে বলছি কিন্তু কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করতে বলে জানান দ্রুতই খুঁটি স্থাপন করা হবে। গত দশ বছরেরও বেশি সময় এভাবেই অপেক্ষা চলছে।

একই এলাকার শাহিন খন্দকার, এরশাদ খন্দকার, রাজিবুল হাসান ও সাব্বির খান সহ অনেকে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিরুপায় হয়ে এভাবে ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হচ্ছে। যে কোন দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এই সংযোগগুলোর নিরাপদ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এছাড়া এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া, মিটার দেখে বিল না দেওয়া এবং লাইনের নানা সমস্যার সমাধানের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিয়ে মেরামত করতে হয় বলেও অভিযোগ করেছে এলাকাবাসি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুত বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ১০০ গজের বেশি দূরত্বে সার্ভিস লাইন দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। ১০০ গজের অতিরিক্ত দূরত্ব হলে অবশ্যই খুঁটি দিতে হবে অন্যথায় সংযোগ দেওয়া যাবে না। অথচ এ এলাকায় ২শ থেকে ৩শ মিটারের বেশি দূরে গিয়ে খুঁটি বসানো হয়েছে। মাঝের স্থান গুলোতে বসানো হয়েছে বাঁশের খুঁটি।

মেঘচামী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হাসান আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ন ভাবে শতাধীক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এখানে একসময় কিছু সিমেন্টের খুঁটি ছিল তা ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে আর খুঁটি স্থাপন করেনি কর্তৃপক্ষ। আমি কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানিয়েছি কোন কাজ হয় নাই। বৃষ্টির দিনে মাঝে মধ্যেই গাছে আগুনের ঘটনা ঘটে। কখন যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডাব্লিউজেডপিডিসিএল) রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, আমার এই বিষয়ে কিছু জানা নেই। তার অনুমতি ছাড়াই খুটি ব্যাতিত কিভাবে এত সংযোগ প্রদান করা হল তারও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে ওই এলাকায় গিয়ে বিষয়টি দেখে খুঁটি বসিয়ে ঝুঁকি এড়াবেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.