কাদের মির্জা ও বাদল গ্রুপের দ্বন্ধ-সংঘাতে বিপযস্ত আ’লীগ:মামলা প্রত্যাহারে সমঝোতা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় স্থবির হয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আসস্মিক সংঘাতে জড়িয়েছে বহুমবার দুই পক্ষ। এক পর্যায়ে এটি রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। গত ১ বছর সংগঠনটির বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বিপযস্ত হয়ে পড়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন গুলো। অবশেষে শান্তি ফেরাতে এক বছর ধরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিবদমান দ্বন্ধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিনের বাসায় ও কোম্পানীগঞ্জ থানায় দুই ধাপে এ সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল অনুসারী মধ্যে এসব দ্বন্দ্ব সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনা ঘটে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অনুসারী।

দুই গ্রুপের এ দ্বন্ধ সংঘাতে কাদের মির্জার প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় তাঁরই আপন তিন ভাগনে। তাঁরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু,ফখরুল ইসলাম রাহাত ও সিরাজিস সালেকিন রিমন। তিন ভাগনে কাদের মির্জার ৪৮ বছরের রাজনীতির ক্যারিয়ারকে টেক্কা দিয়ে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দেয় তাঁর প্রতিপক্ষ গ্রুপকে। এক পর্যায়ে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ শিবিরের আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়ায় তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে দুই পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মামলা প্রত্যাহারে সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ গ্রুপের অনত্যম নেতা উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জায়দল হক কচি, রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজিস সালেকিন রিমন,চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.মাহবুবুর রহমান আরিফ। এ সময় কাদের মির্জার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, এডভোকেট শংকর ভৌমিক ও এডভোকেট শাহেদুর রহমান তুহিন। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান ও কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো.সাজ্জাদ রোমন।

বসুরহাট পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুউদ্দিন নোমান বলেন, সমঝোতা বৈঠক খবর চাউর হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মিদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। শান্তি ফেরাতে এ বৈঠককে সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন আছে বলেও মাঠ পর্যায়ে এ নেতা মন্তব্য করেন।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ তাঁর ভাগনে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরজিস সালেকিন রিমনের বলেন, গত প্রায় দেড় বছর ধরে কোম্পানীগঞ্জে চলমান পরিস্থিতির আলোকে সেতুমন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিনের স্বমনয়ে উপজেলার পরিবেশকে শান্ত করে সবাই যাতে অবাধে চলাচল ও রাজনীতি করতে পারে এ জন্য সমঝোতা বৈঠকের প্রথম ধাপে রাজনৈতিক মামলা গুলো প্রত্যাহরের সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণও এখনো ভয়ভীতিতে অবাধে বসুরহাট বাজারে চলাচল করতে পারেনা। গুটি কয়েক বখাটে নেতৃবৃন্দকে দেখলে এখনো গালমন্দ করে ইভটিজিং করে নানা ভাবে অপদস্ত করতে চায়। তারপর বাসস্ট্যান্ডের সমস্যা। বসুরহাট হাইস্কুল এবং সরকারি মুজিব কলেজে এক পেশে রাজনীতিসহ রাজনৈতিক বৈষম্য। সব মিলিয়ে এসব সমস্যা গুলোকে স্থিতিশীল করতে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
তিনি আরও বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে গত দেড় বছরের দ্বন্দ্ব সংঘাতে ২টি হত্যা মামলা,৮টি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলাসহ পাল্টাপাল্টি প্রায় ৬০টি মামলা হয়। এ ছাড়া কাদের মির্জার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিপক্ষরা কোম্পানীগঞ্জ থানায় ২৮টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যা গুলো বিহিত করার জন্য প্রশাসন আন্তরিক। এরপর কোন পক্ষের অনুসারী গন্ডগোল সৃষ্টি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।

সমঝোতা বৈঠকের বিষয়ে জানতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার ফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন মামলা প্রত্যাহারে সমঝোতা বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিবদমান দুই পক্ষকে নিয়ে গত কয়েক দিন কয়েক বার সমঝোতা সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়। দুই গ্রুপের যতগুলো মামলা আছে সব মামলা গুলো সমাঝতার মাধ্যমে শেষ করা হবে। এখন থেকে নতুন করে কেউ কোনো প্রকার ঝগড়া পাষাদ মারামারি বা কাউকে কেউ অপমান করতে পারবে না । আমরা সবাই সমঝোতা চাচ্ছি। সবাই মিলে মিশে একসাথে কোম্পানীগঞ্জে থাকব। কোম্পানীগঞ্জে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে মানুষের জান মালের হেফাজত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয় । ওনারা আশ্বস্ত করেছেন সমাঝতার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। ওনাদের পরামর্শ নতুন করে কোন বিরোধ করা যাবে না। কেউ নতুন করে কিছু করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নিবেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান নতুন করে কাউকে কোনো প্রকার ঝগড়া পাষাদে না জড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আকরামুল হাসান বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমার সভাপতিত্বে কোম্পানীগঞ্জে পুনরায় শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই পক্ষ দ্বন্দ্ব সংঘাত থেকে বিরত থাকলে প্রশাসন তাদেরকে আইনানুগ সহযোগিতা করবে।

বার্তা প্রেরক

Leave a Reply

Your email address will not be published.