কুড়িগ্রামে হিমাগারে জায়গা না পেয়ে বিপাকে আলু চাষিরা

মোঃ রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে এবার আলুর ‘ফলন ভাল হওয়ায়’ এবং বিক্রি কম হওয়ায় হিমাগারে জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে; এতে বিপাকে পড়েছেন আলু চাষিরা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার শিবরাম গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, এ বছর তিনি ৪৭ একর জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। হিমাগারে আলুর চাপের কারণে সংরক্ষণ করতে সমস্যা হচ্ছে। “এখনও আমার প্রায় ৬০০ বস্তা আলু জমিতে পড়ে আছে।”

জেলার চারটি হিমাগারের সামনে দেখা গেছে, আলুবোঝাই গাড়ি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টার অপেক্ষা করেও মিলছে না হিমাগারে প্রবেশের সিরিয়াল। অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে ট্রাক, নসিমন, পিকআপ, ভ্যান, গরুর গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়িকে। অনেকেরই পথে বিনিদ্র রাত কাটছে বলে তারা জানান।

সেকেন্দার বীজ হিমাগারের মালিক সেকেন্দার আলী জানান, তার হিমাগারে ৫০ কেজি ওজনের দুই লাখ বস্তা আলু সংরক্ষণ করা যায়; যার প্রায় পুরোটাই পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে বুকিংয়ের কিছু আলু ছাড়া কোনো আলু তারা নিতে পারছেন না। এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামের চারটি হিমাগারের চিত্র এ রকম বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, জেলায় এ বছর সাত হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২২ মেট্রিকটন হিসাবে উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন। “কিন্তু জেলার চারটি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা ৫২ হাজার মেট্রিকটন। কিছু খাওয়া হলেও বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ সুবিধার বাইরে থেকে যাবে।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্যান্য বছর বাইরের ব্যবসায়ীরা এখানকার আলু কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান; হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। ট্রাকে করে তারা আলু নিয়ে যেতেন ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামে। এছাড়া মালেয়শিয়া, শ্রীলঙ্কা ও রাশিয়ায় আলু রপ্তানির কারণে আলুর চাহিদা ছিল বেশি। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরুতে বাজার কিছুটা ভালো থাকলেও পরে দরপতন হয় আলুর। ক্রেতাও মিলছে না।

তবে তারা এর কারণ বলতে পারেননি। সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারের আলু ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, চাহিদা না থাকায় তারা কোথাও আলু পাঠাতে পারছেন না। আলুর বর্তমান বাজার দর সম্পর্কে তিনি বলেন, এবার প্রতি কেজি আলু ৯-১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই দরে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না বলে জানান কৃষকরা। তাই হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য ভিড় করছেন। কিন্তু হিমাগারে জায়গা না হওয়ায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মোস্তফা হিমাগার লিমিটেড এর মালিক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা জানায়, দেশে আলুর উৎপাদন ব্যাপক হলেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না! দেশের বাইরে আলু রফতানির সুযোগ দেয়া উচিত! উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণে আলু সংরক্ষণ অর্থাৎ কোল্ডস্টোরে জায়গা সংকুলান হচ্ছে ন! 

Leave a Reply

Your email address will not be published.