নোয়াখালীতে দরপত্র বিক্রিতে বাধা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের দরপত্র বিক্রিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাধারণ ঠিকাদাররা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ দরপত্র বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (৩০ মার্চ) সুবর্ণচর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, গত (১২ মার্চ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা  অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক দীপক রঞ্জন অধিকারী স্বাক্ষরিত ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে গ্রামীণ মাটির রাস্তা সমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড(এইচবিবি) করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করেন। এতে প্রায় ৬২ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডে একটি সড়কের এইচবিবি করণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বুধবার (৩০ মার্চ) এই দরপত্র বিক্রির শেষ দিন ছিল। কিন্তু বেশ কয়েকজন ঠিকাদার সুবর্ণচর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ ও জেলা দুর্যোগ ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে দরপত্র পায়নি। বরং দুই কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চলে তালবাহানা। সর্বশেষ সুবর্ণচর উপজেলার চর জুবলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ খসরু ও চরবাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম রাজীব ও সংশিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দরপত্র বিক্রির শেষ দিনেও দরপত্র কিনতে ব্যর্থ হন অনেক ঠিকাদার। আবার ছাত্রলীগ নামধারী একটি পক্ষ শেষ দিন দরপত্র কেনা ব্যাহত করতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত ছিলেন।  

নাম প্রকাশে অইচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, সুবর্ণচর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ও জেলা দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক এবং দুই ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে নিজস্ব লোক ছাড়া কারো কাছে দরপত্র বিক্রি করা হয়নি। শেষ দিন সরাসারি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে দরপত্র কেনাবেচায় বন্ধ রাখা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ দরপত্র বিক্রির সময় সু-কৌশলে ছুঁটিতে আছেন। কিন্তু এ সময়ে তিনি কর্মস্থলে থাকার কথা।
অভিযোগরে বিষয়ে জানতে চাইলে চর জুবলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ খসরু অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন তিন এ ঘটনার সাথে জড়িত নেই। চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম রাজীবের ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসভি করেননি।  

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার সুবর্ণচর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আহমেদের ফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।  
জেলা দুর্যোগ ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জাহিদুর রহমান অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে দাবি করেন দরপত্র বিক্রি করা হয়েছে।  
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৈতী সর্ববিদ্যা বলেন, ডিসি স্যারের অনুমতি ছাড়া আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবনা।  
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বলেনে খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা  অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক দীপক রঞ্জন অধিকারী বলেন, দরপত্র ওপেন করে দেওয়ার কথা।  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কেন সিডিউল বিক্রি করছেনা, বিষয়টি আমি দেখছি।    

Leave a Reply

Your email address will not be published.