কি হয়েছিলো সেদিন রাতে মেয়ে সহ নিজের জীবনের নিরাপত্তা চায় গৃহবধূ বিউটি

কাজী তানভীর মাহমুদ,স্টাফ রিপোর্টার:
৫ বছর বয়সী শিশু কন্যা নিশাত তাসনিম কে নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন গৃহবধূ বিউটি আক্তার বৃষ্টি (২২)। গভীর রাতে শাশুড়ির ডাকে ছাগল দেখতে ঘরের বাহিরে যাওয়া ও ফিরে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়া। ঘুমের ভিতরে হঠাৎ কে বা কাহারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে। চিৎকার দিলে হামলাকারী পালিয়ে যায়। দ্রæত পাশের ঘর থেকে শাশুড়ি ও জা ছুটে এসে উদ্ধার করে অনান্যদের সহায়তায় নিয়ে যায় সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে গিয়ে ভর্তি। সুস্থ হলে দেখা যায় গলায় একাধিক সেলাইয়ের চিহ্ন।

মৃত্যুর মুখ থেকে জীবন নিয়ে ফিরে আসার এমন ঘটনা ঘটেছে গত ২ মার্চ বুধবার রাত ৩ টার দিকে রাজবাড়ী জেলা সদরের মূলঘর ইউনিয়নের পূর্ব মূলঘর গ্রামে রইচ উদ্দিন মিয়ার বাড়িতে। আহত বিউটি আক্তার বৃষ্টি রইচ উদ্দিন মিয়ার ছোট ছেলে মওদুদ মিয়া পান্নার স্ত্রী। বর্তমানে পান্না সৌদী আরবে রয়েছেন। গলায় একাধিক সেলাই নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় বিউটি এখন আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ফুটফুটে ছোট্ট শিশু মেয়ে ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বড় বেশি চিন্তিত বিউটি।

এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ বিউটির শাশুড়ি মোছলেমা পারভীন (৫২) বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় ৩০৭/৪৬০/৩২৬ ধারায় পেনাল কোড-১৮৬০, তারিখ ঃ ৮ মার্চ ২২ইং এ ২ জন কে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামীরা হলেন, রাজবাড়ী সদর থানার পূর্ব মূলঘরের মৃত করিম মিয়ার ছেলে এহতেশামুল হক ফারুক (৫৫) ও মোঃ আমিনুল ইসলামের ছেলে মোঃ ফরিদ সরদার (৪৭)। মামলার পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছে। আসামীদের দ্রæত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে পূর্ব মূলঘর এলাকাবাসীর ব্যানারে গত ১৬ মার্চ বুধবার রাজবাড়ী প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করেছে বিউটির শশুরবাড়ির পরিবার।

গৃহবধূ বিউটি আক্তার বৃষ্টির শাশুড়ি মোছলেমা পারভীনের বলেন, গত ০১ মার্চ মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে পরিবারের লোকজনের সাথে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বসতবাড়ির ছাগল রাখার ঘর হতে ছাগলের ডাকাডাকি শুনে আমি ও বিউটি ঘুম থেকে উঠে ছাগল রাখার ঘড়ে গিয়ে টর্চ লাইট মেরে সেখানে কাউকে দেখতে না পেয়ে পুনরায় আমরা ঘড়ে ফিরে যে যার রুমে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে চিৎকার শুনে দ্রæত বিউটির রুমে গিয়ে দেখি গলা ও ঘাড়ের ডান পাশে গুরত্বর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে সে। আমি ও আমার বড় ছেলের স্ত্রী আছিয়া আক্তার একটি ওড়না ক্ষতস্থানে চেপে ধরে রক্ত বন্ধের চেষ্টা করি এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। কিছুটা সুস্থ হলে বিউটির কাছে জানতে পারি এহতেশামুল হক ফারুক ও মোঃ ফরিদ সরদার সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করার চেষ্টা করে। বিউটি জানিয়েছে তার ব্যক্তিগত কোন শত্রæ নেই। মামলার আসামীদের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রæতা ছিলো। পরে বিউটি একটু সুস্থ হলে আমরা মামলা দায়ের করেছি।
গৃহবধূ বিউটি আক্তার বৃষ্টি বলেন, আমাকে যারা রাতের অন্ধকারে ঘড়ের মধ্যে ঢুকে জবাই করে হত্যা করতে চেয়েছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার শিশু মেয়েটিও ঘটনার সময়ে আমার পাশেই ঘুমিয়ে ছিলো। মেয়েটি অনেক ভয়ে এখন চুপচাপ হয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের দ্রæত গ্রেপ্তারের দাবী জানাই। এখনও মেয়ে ও আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ে আছি। আমি আমার সন্তান কে নিয়ে প্রাণে বাঁচতে চাই। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
এ ঘটনার মামলায় উল্লেখিত আসামীদের খুজতে মূলঘরে গেলেও তাদের কে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছে মামলার পর থেকেই আসামীরা পলাতক রয়েছে।

মামলার ১নং আসামী এহতেশামুল হক ফারুকের জামাই মোঃ শানু বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই আমার শশুড়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তিনি বয়স্ক একজন অসুস্থ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। মূলঘর বাজারে তার সারের ও বীজের দোকান। মামলার পর থেকে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমরা এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান শেখ জানান, গৃহবধূ বিউটির উপরে হামলার ঘটনাটি আমি শুনেছি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি দুই পক্ষ কে চিনি। জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষের উপরে হামলা চালানোর বিষয়টি গুরত্বর অপরাধ। ঘটনার পরে পরিষদে আমরা কোন পক্ষের অভিযোগ পাইনি। মামলা হয়েছে জানতে পেরেছি। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানাই।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মুরাদ হোসেন জানান, মামলাটি তদন্তাধিন রয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.