মেঘনায় যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে পড়ে যাত্রী নিখোঁজ

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমভি কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে সুলতান আহমেদ (৭০) নামের এক যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর বঙ্গেরচর ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীর জলসীমায় পড়ে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও ইলিশা নৌ পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। ওই লঞ্চের যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেন বলেন, নদীতে পড়ে নিখোঁজ ওই ব্যক্তি তাবলিগ জামায়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চঘাটে আসেন। তাবলিগের চরফ্যাশনের সঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে লঞ্চে ওঠেন। লঞ্চের ডেকের যাত্রী ছিলেন তিনি। রাতে টয়লেটে যাওয়ার জন্য লঞ্চের দোতলায় ওঠেন। পরে অজু করার জন্য নিচতলায় নেমে লঞ্চের এক পাশে দাঁড়ান। এ সময় পা পিছলে তিনি নদীতে পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের চিৎকারে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। সবার ধারণা, নদীতে পড়ে স্রোতের টানে তিনি পানিতে তলিয়ে গেছেন। ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়েও তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। লঞ্চের সুপারভাইজার মাকসুদুর রহমান বলেন, যাত্রীর নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঝ নদীতে লঞ্চ নোঙর করে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। স্রোতের টানে তলিয়ে যাওয়ায় চেষ্টা করেও তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ, ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও নৌ পুলিশকে জানানো হয়েছে।

মাকসুদুর রহমান আরও বলেন, প্রতিটি ঘাটের সব সুপারভাইজারদের এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ যাত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজালাল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তারপরও আমরা বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.