ঝালকাঠিতে সরকারী বন্দোবস্ত জমি থেকে উৎখাতের অপচেষ্টার অভিযোগ

আবু সায়েম আকন, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারী বন্দোবস্ত জমি থেকে উৎখাতের অপচেষ্টা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অসহার স্বামী পরিত্যাক্তা চার সন্তানের জননী ছুফিয়া খাতুন।

রবিবার সকাল ১০টায় রাজাপুর প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় ছুফিয়া খাতুনের ননদ ছুফিয়া বেগম ও মেজ ছেলে ওবায়দুল আকন রনি উপস্থিত ছিলেন। ছুফিয়া খাতুন উপজেলার কানুদাসকাঠি এলাকার ইমান উদ্দিন হাওলাদারের মেয়ে।

ছুফিয়া খাতুন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানায়, ছুফিয়া খাতুন চার সন্তান নিয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা হয়ে অন্যের বাড়ি কাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন। মাথা গোজার জন্য ২০১২ সালে সরকারী ভাবে ৩৯ নং কানুদাসকাঠি মৌজা, দাগ নং ২০৮৯১, ১ খতিয়ান ৩৪৩৮, ৪৬২ নং দলিল মূলে ৮ শতক জমি বন্দোবস্ত পায় ছুফিয়া খাতুন। যাহা সরকারী সার্ভেয়ার সরেজমিনে গিয়ে ছুফিয়াকে বুঝিয়ে দেয়। তখন থেকেই ঐ জমির উপর লোভ পরে স্থানীয় আমির হোসেন মাস্টার, ফারুক সিকদার, আমির হোসেন হাওলাদার, সেকান্দার আলী, করিম হাওলাদার নিরুল, ফেরদৌসি আক্তার, হারুন অর রশিদ, মোকলেছ হাওলাদারের। তারা বিভিন্ন সময় ছুফিয়া খাতুনের পরিবারের ওপর অন্যায় ভাবে হামলা, মামলা, লুট-পাট করে আসছেন। ছুফিয়া খাতুন নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও সুফল পাচ্ছে না। অভিযুক্তরা জায়গা ছেড়ে দিতে বিভিন্ন সময় গুম-খুনের হুমকি দিয়ে আসছেন। শুধু তাই নয় ছুফিয়া খাতুনের নামের সাথে তার ননদ ছুফিয়া বেগমের নামের মিলা থাকায় অভিযুক্তরা ছুফিয়া বেগমের নামের জমির কাগজ ব্যবহার করে ছুফিয়া খাতুনের জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত সরকারী জমি বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। এছাড়াও নিজ সন্তানের হত্যাকারী আমির হোসেন নিজে বাদী হয়ে ছুফিয়া বেগমের নামে ভূয়া দাগ খতিয়ানে জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত বাতইলের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। ছুফিয়া খাতুন অভিযুক্তদের হয়রানী, অপ-প্রচার ও জান-মাল নিয়ে নিরাপদে থাকতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমি হোসেন মাস্টার বলেন, আমার উপরে আনা এইসব অভিযোগ মিথ্যা। আমার মেয়ের নামে বন্দোবস্ত দেয়া জমি ওবায়দুল আকন রনি কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে মায়ের নামে নতুন করে বন্দোবস্ত নিয়ে আসে আমি সেটাই ফিরয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *