অবশেষে শেষ বিদায় নিলেন অগ্নিদগ্ধ রে

আকাশ সরকার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে আগুনের ঘটনায় ছয় বছরের ছেলে জুবায়ের, তার বাবা মকবুল, বড় ছেলে জয় ও রেখার গর্ভে থাকা সন্তানের পর এবার মৃত্যুর কাছে হার মানল অগ্নিদগ্ধ রেখা। এই ঘটনায় রেখাসহ মকবুলের পরিবারের ৫ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখার মৃত্যু হয়। নিহত মকবুলের চাচা মমিনুল ইসলাম রেখার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলা সদরের শরীয়তনগর এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটে। এসময় নিহত মকবুল হোসেনের ছেলে জুবায়ের (৬) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় মকবুল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী রেখা বেগম (৩২) এবং তাদের আরেক ছেলে জয় (১২) ও ভবনের বাসিন্দা জামিয়া রহমানসহ ১০ দগ্ধ হয়েছেন। তারা মুমুর্ষু অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ও ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করন মকবুল হোসেন।

এরপর রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুলের বড় ছেলে জয় মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের শেষ ব্যক্তি রেখা ছিলেন শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটের লাইফ সাপোর্টে। অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনে সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখাও মৃত্যুবরণ করেন। তাদের পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই। এনিয়ে এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার চরচারতলা ইউনিয়নের শরীয়তনগর এলাকায় স্থানীয় মোহাম্মদ আলাই মিয়ার পাঁচতলা বিশিষ্ট বাড়ির নিচতলার ভাড়া থাকতেন মকবুল হোসেন ও তার পরিবার। রাত সোয়া ১০ টার দিকে মকবুলের বড় ছেলে জয় মশার কয়েল ধরানোর জন্য দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালায়। এসময় কিছু বুঝার আগেই মুহুর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে যায়। মকবুল হোসেন তখন রাতের খাবার খেতে বসেছিল। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বাসার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারনে অন্ধকারে দরজা খুজে না পাওয়ায় তারা বের হতে পারেনি। ফলে বাসার ভেতরে তারা আটকে যায় এবং চারজনই অগ্নিদগ্ধ হয়। খবর পেয়ে আশুগঞ্জ, সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের ৪টি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।

নিহত মকবুলের চাচা মো. মমিনুল ইসলাম জানান, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর রাতেই মকবুলের ছোট ছেলে জুবায়ের মারা যায়। পরে রাতেই মকবুল হোসেন ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্যকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকালে মকবুল হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। এরপর রোববার সকালে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুলেল বড় ছেলে জয় মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে মকবুলের স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তানও মৃত্যুবরণ করেন। শেষমেষ সাতদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুলের পরিবারের বেঁচে থাকা তার স্ত্রী রেখাও মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *