গাজীপুরে ইসলামি লিখায় সাজানো হয়েছে স্কুল এন্ড কলেজের দেয়াল!

টি.আই সানি, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
ভাষার মাসে বাংলা অক্ষরে ছেয়ে গেছে স্কুল এন্ড কলেজের দেয়াল। প্রাচীর ঘেরা স্কুলের রঙিন দেয়াল একসময় ধুলো ময়লা জমে থাকতো আর হরেক রকম বিজ্ঞাপনী পোস্টারে ছেয়ে যেতো দেয়াল। শিক্ষকদের এই প্রশংসনীয় কাজকে এলাকার সবাই ভালো বলছে। রাস্তার পাশেই দেয়াল আর দেয়াক জুড়ে ইসলামি লিখা, কুরআন, হাদিস ও ইসলামি লিখায় সাজানো হয়েছে স্কুলের দেয়াল। এখন মানুষ রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে গেলেই দেয়ালে থাকা বড় অক্ষরের লিখাগুলোতে চোখ বুলিয়ে নেয়।

হাজী ছোট কলিম স্কুল এন্ড কলেজ গাজীপুর শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামে অবস্থিত। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই এম সি বাজার থেকে কয়েক মিটার পশ্চিমে অবস্থিত। স্কুলটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকে সুনামের সাথে চলছে হাজী ছোট কলিম স্কুল এন্ড কলেজ।

‘ফ্রেমস অব মুসাফির’ নামক ফটোগ্রাফি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ সিয়াম বলেন,গতকাল রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে আমার চোখ আটকে যায় হাজী ছোট কলিম স্কুল এন্ড কলেজের দেয়ালে। তাই তিনি ক্যাম্পাস থেকে এবং ফেসবুক অফিসিয়াল পেইজে আপলোড করেছে স্কুলের ওই লিখাগুলো।

তিনি আরও বলেন দেয়ালে লিখাগুলো অন্তরে শান্তি দেয়। কয়েকটা লিখা এমন,নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে।
(আল-আনকাবুত ৪৫” প্রকৃতি মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার মুখের ভাষা ও হাত থকে অন্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে। (সহীহ বুখারী)”পরকালে যাহা আবশ্যক তাহা যৌবনে সংগ্রহ করিও।(শেখ সাদী)”যদি শরীর প্রদর্শনই (বেপর্দাই) হয় আধুনিকতা,তাহলে পশুরাই সবচেয়ে আধুনিক।”(ড. জাকির নায়িক)”সৌভাগ্যবান বাবা-মা তারাই যাদের অনুপস্থিতিতেঅ তাদের জন্য সন্তানেরা দু’আ করে।”(ড. বিলাল ফিলিপস)সহ আরও অনেক অনেক লিখা রয়েছে দেয়ালে।

স্কুলের পাশেই বইয়ের দোকান সেখানেই কথা হলো সোনালী ব্যাংকে কর্মরত মাসুম আহমেদের সাথে। তিনি বলেন,এ ধরনের উক্তিগুলো ছেলেমেয়েদের মনোজগতে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে। এখন তো বিভিন্ন দেয়ালে নানারকম আজেবাজে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখি। তার পরিবর্তে হাজী ছোট কলিম স্কুল এন্ড কলেজের দেয়ালের মতো সব স্কুল-কলেজের দেয়ালে এরকম উক্তিগুলো লেখা থাকা উচিত।

স্কুল এন্ড কলেজের সামনে বসে থাকা এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রোমানা আফরোজ বলেন, আমরা যারা অভিভাবক তারা প্রতিদিন এসে বাইরে বসে থাকি। বসা ও হাঁটা-চলার ফাঁকে ফাঁকে দেয়ালের লেখাগুলো পড়ি। ভালো লাগে। আমাদের ছেলেমেয়েরাও পড়ে।

স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলেন-আমি যাওয়া-আসার পথে আমাদের স্কুলের দেয়ালের লেখাগুলো পড়ি। সব লেখার অর্থ বুঝি না। তাই কখনও কখনও বাবাকে জিজ্ঞেস করি। বাবা সেই লাইনগুলোর অর্থ বলে দেন। আমার খুব ভালো লাগে লেখাগুলো।

হাজী ছোট কলিম স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান সজল বলেন, দেয়ালে এধরনের লেখার কারণ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার সময় যাতে ভালো উক্তি বা বাণীগুলো পড়ে নিজেকে বদলাতে পারে। নিজের চেতনাকে শাণিত করতে পারে। সে যাতে ভালো ও বড় হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়। শিক্ষা তো শুধু স্কুলের গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষার্থী তো স্কুলে যাওয়া-আসার পথে, প্রকৃতি ও মানুষের থেকে শিখতে পারে। শিক্ষার যেমন শেষ নেই তেমনি শেখার পদ্ধতিরও শেষ নেই। মানুষের চেতনার উন্মেষ ঘটানোর এটা একটা ভালো পদ্ধতি।

এই ইসলামি বার্তা গুলো মুসলিম উম্মাহর জন্য মনে শক্তি জোগাবে এবং শিক্ষার্থীদের মনে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে, ইসলামিক জ্ঞানের বিকাশ ঘটবে বলে অনেকে আশাবাদী। হাজী ছোট কলিম স্কুল এন্ড কলেজের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নানা পেশার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.