রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী অফিসার ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

কাজী তানভীর মাহমুদ,স্টাফ রিপোর্টার:
অবৈধ্য অর্থের বিনিময়ে স্বার্থান্বেসী লোকজনের মধ্যে লিজ প্রদান করায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী অফিসার মানিকহার রহমান ও সার্ভেয়ার শাহ ইমরানের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে সদরের খানগঞ্জ ইউপির বেলগাছি দাদপুর বাজারের খাঁন বাহাদুর মার্কেটের সাধারন ব্যবসায়ীবৃন্দ।

রোববার (২৭ ফেব্রæয়ারী) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের সময়ে উপস্থিত ছিলেন, বেলগাছি দাদপুর বাজারের খাঁন বাহাদুর মার্কেটের ব্যবসায়ী মোঃ আবুল কালাম,উত্তম কুমার বিশ্বাস,জহিরুল ইসলাম,উজ্জল কুমার সাহা,মোঃ হাসান শেখ,ফারুখ দেওয়ান,মধুসূদন,আলমগীর চৌধুরী,মোঃ নিজামউদ্দিন,তালেব শেখ।

স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ীরা লেখেছেন, রাজবাড়ী সদর থানার খানগঞ্জ ইউনিয়নের অধিন দাদপুর বাজারে অবস্থিত রাজবাড়ী জেলা পরিষদের নামীয় এসএ-০২ নং খতিয়ানের অন্তর্গত আরএস ২৬০ নং দাগের ৭৫০ বর্গফুট আরএস ২৬১ নং দাগের ৮০০ বর্গফুট এবং ৯৪৫ বর্গফুট একুনে =১৭৪৫ বর্গফুট তৎসহ ঐ একই খতিয়ানের অধীন আরএস-২৬২ নং দাগের ১২০ বর্গফুট ১০০০ বর্গফুট ৭০০ বর্গফুট একুনে ২৯০০ বর্গফুট অর্থাৎ তিন দাগের ৫৩৯৫ বর্গফুট যাহা গড়ে ৫৪০০ বর্গফুট জমাজমি বহু পূর্ব হইতে পরিত্যাক্ত থাকার পর জনৈক বখতিয়ার খান উল্লেখিত জমাজমি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লীজ গ্রহন করিয়া বিগত ষাট বছরের উর্দ্ধকাল যাবৎ লীজ গ্রহনকৃত জমাজমিতে নিজেই কয়েকটি দোকান ঘর উত্তোলন করিয়া স্বল্প পুঁজির কিছু গরীব শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের কাছে নামমাত্র মূল্যে ভাড়া প্রদান করেন। পরবর্তীতে উক্ত বখতিয়ার খানের অনুমতি লইয়া এলাকার আরও কিছু প্রান্তিক পর্যায় গরীব লোকজন নিজেরাই দোকান ঘর উত্তোলন করিয়া তথায় সামান্য পুঁজির ব্যবসা বানিজ্য পরিচালনা করিয়া কোন মতে সংসার পরিচালনা করিয়া আসিতে থাকেন। উল্লেখিত জমাজমি বাবদে উক্ত বখতিয়ার খান যথারীতি রাজবাড়ী জেলা পরিষদে বাৎষরিক খাজনা পরিশোধে বিগত ষাট (৬০) বৎসরের ইজারার খাজনার রশিদ প্রাপ্ত হইয়াছেন। ইতোমধ্যে দাদপুর বাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় এবং দাদপুর বাজারের মান বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার কিছু অর্থবিত্ত ও প্রভাব প্রতিপত্তিশালী লোকজনের চোখ পড়ে যায় ঐ দোকান ঘর গুলির উপর। তাহারা যেনতেন প্রকারে ঐ দোকান ঘরগুলি বিভিন্ন কৌশলে নিজেরা হস্তগত করার জন গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তাহারা জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার শাহ ইমরান এবং রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মানিকহার রহমানের সহিত গোপনে যোগাযোগ করিয়া জেলা পরিষদের যায়গায় থাকা ঐ বহু পুরোনো দোকান ঘর গুলো সম্পূর্ন অবৈধ উপায়ে লীজ নিয়া ঐ দোকান ঘর গুলো লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সুযোগ সন্ধানী কিছু লোকজন বরাদ্ধ নিয়া নিজেরা লাভবান হওয়ার অপকৌশলে লিপ্ত আছে। উল্লেখিত রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার শাহ ইমরান এবং রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মানিকহার রহমান কুচক্রিমহলের সহিত যোসাজশে দূর্নীতির আশ্রয় গ্রহন করিয়া ঘাট (৬০) বছরের উর্দ্ধকাল যাবৎ যে সকল প্রান্তিক গরীব ব্যবসায়ীরা বংশপরম্পরায় দোকান ঘর উত্তোলনে সেথায় ব্যবসা বানিজ্য পরিচালনা করিয়া আসিতেছে। উল্লেখিত অর্থলোভী ব্যাক্তিদ্বয় আমাদের মত দরখাস্তকারীদের দীর্ঘদিনের দোকানদারদেরকে অমানবিক এবং সম্পূর্ন অনৈতিক ভাবে উচ্ছেদ করিয়া তথায় প্রভাবশালী নতুন ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্ধ দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। উল্লেখিত অর্থলোভী ব্যাক্তিদ্বয় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অফিসারবৃন্দকে ভুল বুঝাইয়া এবং মিথ্যা তথ্য দিয়া ভ্রমে পতিত করিয়া নতুন করিয়া লীজ বাতিলের আদেশ দিয়া এবং নতুন লীজের প্রস্তাব দিয়া লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করিয়া চরম ভাবে দুর্নীতির সহিত জড়তি হইয়া আমাদের মত প্রান্তিক গরীব ব্যবসায়ীদের কে উচ্ছেদ করিবার জন্য অনৈতিক কার্য করিতেছেন এবং ইতোমধ্যে সার্ভেয়ার শাহ ইমরান তড়িঘরি করিয়া অনত্র বদলী হওয়র জন্য চেষ্টা করিতেছে। উল্লেখিত অবস্থাধীনে আমরা নিম্ন বর্নিত দরখাস্তকারীগন দীর্ঘ বহু বছরের দোকান হারানোর ভয়ে আতঙ্কগ্রস্থ আছি। অতএব প্রার্থনা মহাত্মন মহানুভব ন্যায় বিবেচক দয়া প্রকাশে আমাদের অত্র আবেদনখানা সুবিচেনায় গ্রহন করিয়া যায় ভাবে একটি ন্যায় ভিত্তিক ব্যাবস্থা গ্রহন করিয়া আমাদেরকে চির কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করিতে মর্জি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.