দিনাজপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে পালানো আসামি লুৎফরকে ২ দিনের রিমান্ড

মোঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল আদালত চত্বর থেকে গত বৃহস্পতিবার ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে হত্যা, ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইসহ ৬ মামলার আসামি লুৎফর রহমান(৩৫) পালিয়ে গিয়েছিল।

দিনাজপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে হত্যা, ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইসহ ৬টি মামলা আসামী লুৎফর পালিয়ে যাওয়ার কারণে আরো একটি মামলা যোগ করা হয়। আসামি লুৎফরের দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের পর আসামি লুৎফর রহমান(৩৫)কে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়। দিনাজপুরের আমলি আদালত-১ (সদর) আসামি লুৎফর রহমানকে পালানোর সময় আরও কোনো সহযোগী ছিল কিনা তা জানার জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শিকদারহাট এলাকার মোতাহার হোসেনের ছেলে আসামি লুৎফর রহমান।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর আহমেদ জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে তোলার সময় আসামি লুৎফর রহমান সুকৌশলে হ্যান্ডকাফ খুলে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাবার পর আসামি লুৎফর রহমান দিনাজপুরে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়েছেন । তারপর দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে নাইট কোচে উঠে ঢাকায় যান বাবার কাছে । বাবার কাজ থেকে কিছু  টাকা নেন এবং জেলখানায় কাজ করার ১০০০ হাজার টাকা দিয়ে ২ কেজি মাংস কিনে নিয়ে পরিবারের সাথে পোলাও বিরানি খান। এরপর বাবা-মায়ের কর্মস্থল ঢাকা ধামরাইয়ের একটি ইটভাটায় আত্মগোপন করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে আসামি লুৎফর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশের পক্ষে অভিযান করেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার দুইটি প্লাটুন এবং ঢাকা থেকে একটি প্লাটুন,মোট তিনটি প্লাটুনে ২২ জন এই অভিযান চালায়। দিনাজপুর থেকে অভিযান পরিচালনা করেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক নুর আলম, ইব্রাহীম হোসেন এবং গোয়েন্দা পুলিশ সদস্য মোঃ দুলাল হোসেন।

দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়,২০২০ সালের ২৮ মে আউলিয়াপুর এলাকায় মোঃ আরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় লুৎফরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আরিফুলের বাবা মোঃ ওহাবউদ্দিন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হন লুৎফর। তাঁকে গত বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে জেলা কারাগার থেকে অন্য আসামিদের সঙ্গে কোর্টহাজতে নিয়ে আসে।বৃহস্পতিবার লুৎফরের মামলার শুনানির তারিখ ধার্য ছিল। তাই লুৎফরকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলার জন্য ওপরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময়ই কোনোভাবে সকলের সামনেই ‘রহস্যজনকভাবে’ সে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যায়।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক(তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে জেলহাজতে ছিলেন লুৎফর। তাঁর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলাসহ চুরি ও মাদকের ৬টি মামলা রয়েছে। পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.