ভোলার ঐতিহ্যবাহী বাংলাস্কুল সংলগ্ন পুকুর রক্ষায় স্বারকলিপি প্রদান

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
ভোলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দুই শতাধিক বছরের পুরোনো বাংলাস্কুল পুকুরের চারপাশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরের বর্জ্য ফেলে ভরাট ও দখল করা হচ্ছে। অনেকে পাকা ভবন তুলছেন। পুকুরের সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দারা। ‘ভোলার সচেতন নাগরিক সমাজ’–এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক–ই-লাহী চৌধুরী আবেদনপত্রটি গ্রহণ করে সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্ত করা ও খননের আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় ভোলার আইনজীবী মো. বশির উল্লাহ, জহুরুল ইসলাম, সাংবাদিক শওকাত হোসেন, টাউন কমিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বিরউল্লাহ চৌধুরীসহ শিক্ষক, সাংবাদিক, নাগরিক আন্দোলনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোলা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে (শহরের মধ্যখানে) চরজংলা মৌজার শ্যামাচরণ মুখোপাধ্যায়ের পুকুর ও জমি বর্তমানে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। এ মৌজার পুকুরটি দুই শতাধিক বছরের পুরোনো। স্থানীয় প্রশাসন পুকুরটি বিভিন্ন সময়ে অস্থায়ী ইজারা (লিজ) দিয়েছে। ইজারাগ্রহীতারা আইন উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে পুকুর ভরাট করে দখল করছেন। পুকুরের আশপাশে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চবিদ্যালয়, একটি ডিগ্রি কলেজ, একটি আয়ুর্বেদিক কলেজ ও একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে। আগে শানবাঁধানো দুটি ঘাট ছিল। একটি ঘাট দখল করে ভবন উঠেছে। এ পুকুরে এখনো বাজারের লোকজন গোসল করে, শিশুরা সাঁতার শেখে ও সাঁতার কাটে। শহরে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণে পুকুরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ অবস্থায় পুকুরটির সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্ত করা ও খনন জরুরি। জনস্বার্থে ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে পুকুরটির সীমানা নির্ধারণ করে পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবি জানান নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

মোবাশ্বিরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, পুকুরটি রক্ষায় তাঁরা ৩০ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন। প্রশাসন ২০২০ সালে একবার এক পাশের সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিলেও আবার তা দখল হয়েছে। তাই পুকুরের সীমানা নির্ধারণ ও খনন জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.