উলিপুরে স্থগিত ৪টি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হলেন যারা

মোঃ রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় চতুর্থ ধাপের স্থগিত হওয়া ৪ ইউনিয়নের ৭টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের দিন ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, সহিংসতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এসব কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।

সরেজমিনে কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ভোট শুরুর দিকে কিছুটা ভোটার উপস্থিতি থাকলেও দুপুর নাগাদ সেটা চোখে পড়েনি। অনেকটা ঢিলেঢালাভাবেই চলছিল ভোট। এসময় জাল ভোট দিতে এসে দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ৫ জন ও তবকপুর সরদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ৩ জন কে আটক করা হয়।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৪টি, সাহেবের আলগায় ১টি, বুড়াবুড়িতে ১টি ও তবকপুর ইউনিয়নের ১টি কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ২৭২জন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ওই সাতটি কেন্দ্রে ৯ জন এক্সিকিটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

সারাদিন ভোট গ্রহণ শেষে গণনার পর রাত ১০ টায় উপজেলা নির্বাচন অফিসের কন্ট্রোল রুম থেকে স্ব স্ব ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রির্টানিং অফিসারগণ ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন, তবকপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে মোখলেছুর রহমান ৬ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম মন্ডল মটর সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৮৩ ভোট।

বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে আসাদুজ্জামান খন্দকার এরশাদ ৬ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সহিদুর রহমান ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭০৭ ভোট।

দূর্গাপুর ইউনিয়নে (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী মটর সাইকেল প্রতীকে সাইফুল ইসলাম মিঞা সাঈদ ৭ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খাইরুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৬ভোট।
সাহেবের আলগা ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মটর সাইকেল প্রতীকে মোজাফফর হোসেন ২ হাজার ৬৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি মনোনীত আব্দুল বাতেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪৭ ভোট।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার আহসান হাবিব বলেন, সকলের সহযোগিতায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *