দিনে দিনে পর্যটক কমেছে সেন্টমার্টিনে

এইচ এম আল আজাদ, সেন্টমার্টিন:
করোনার প্রভাবে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের পর্যটন শিল্প। কমে গেছে পর্যটকের আনাগোনা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার সরেজমিনে সে চিত্র দেখা গেছে। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলে বুকিং কমে এসেছে। বাতিল হচ্ছে অগ্রিম বুকিংও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কারণে সর্বত্র আতংক সৃষ্টি হয়েছে। বেড়াতে এসে করোনা সংক্রমণের ভয়ে পর্যটকেরা আগ্রহ হারাচ্ছে। এ ছাড়াও যেকোনো মুহূর্তে লকডাউনের ঘোষণা আসতে পারে-এমন আতংকেও পর্যটকরা বেড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করছে। অনেক পর্যটক অগ্রিম রুম বুকিং দেয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে বুকিং বাতিল করছে তারা। এমতাবস্থায় আবারো বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ী ও হোটেল মোটেল মালিকরা।বরাবরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলে আসছে দেশে করোনা রোগী দিন দিন বাড়ছে। নতুন ভাইরাস ওমিক্রনও ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশের সব জেলায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রণালয়। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ওমিক্রন আর করোনা আতঙ্কে মানুষ ভ্রমণে বের হচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ায় বার্ষিক শিক্ষা সফরে যেতে পারছে না দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিসহ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা। এ কারণে প্রভাব পড়েছে পর্যটনশিল্পে।

সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে প্রতিদিন ৯টি জাহাজ চললেও এখন মাত্র চলছে ৭টি। হোটেল রিসোর্টে শুক্র-শনিবারে কিছুটা বুকিং থাকলেও বাকি দিনগুলোতে প্রায় রুম খালি। প্রতিদিন ৭টি জাহাজ চলাচল করলেও যাত্রী সংকটের কারণে মাঝে মধ্যে অনেক জাহাজ সেন্টমার্টিনে যায় না।

সেন্টমার্টিনের হোটেল সী-প্রবালের পরিচালক আবদুল মালেক জানান, সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ এর শুরু থেকে দ্বীপে পর্যটক কমেছে। সেন্টমার্টিনে এ বছর ব্যবসাও সামনে আর হবে না।

জয় রিসোর্টের পরিচালক নুরুল আবছার বলেন, দ্বীপের স্থানীয় মানুষগুলো জীবন জীবিকা নির্বাহ করে ৪ মাস ডাব বিক্রি করে, অটো, ভ্যান, স্পিড বোট, ফ্লাইবোট, বিচ চেয়ার ভাড়া দিয়ে আর দোকানপাট ও ট্যুরিজম ব্যবসার আয়ের টাকা দিয়ে বাকি ৮ মাস চলে। কিন্তু এ বছর আশানুরূপ ব্যবসা নেই বললে চলে। এ বারের ধাক্কা লেগেছে সরকারের বিধিনিষেধ ও ওমিক্রনে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার সৈয়দ আলম বলেন, প্রতিবছর জাহাজ চালু হয় সেপ্টেম্বরের শুরুতে। এ বছর জেটি মেরামতের জন্য প্রায় আড়াই মাস দেরিতে নভেম্বরের ১৬ তারিখ জাহাজ চালু হয়েছে। এখন করোনা আতঙ্কে পর্যটকও কমে যাচ্ছে।

সবমিলিয়ে আমরা দ্বীপের স্থানীয়দের বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাছাড়া বর্ষাকালে দ্বীপের মানুষগুলো আয় রোজগার করতে পারে না। পর্যটন মৌসুমের ৪ মাসের আয় দিয়ে বাকি ৮ মাস চলতে হয় আমাদের।
কেয়ারী ট্যুরস অ্যান্ড লিমিটেডের কক্সবাজারস্থ ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ ছিদ্দিকী বলেন, শুক্র-শনিবারে পর্যটক বাড়লেও সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে অনেক কমে গেছে। অনেকে আবার বুকিং করে বাতিল করছে। গেল সপ্তাহ ধরে এ দুর্দশা শুরু হয়েছে। এখন বলতে গেলে জাহাজ খরচও উঠছে না।

বে-অব বেঙ্গল ট্যুরিজম ও ফারহান-পারিজাত জাহাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ডিসেম্বরের চাইতে জানুয়ারিতে পর্যটক অর্ধেকে নেমে গেছে। মাঝে মধ্যে দুই জাহাজের যাত্রী এক জাহাজে করে নিয়ে যেতে হয়। এসবের কারণে আজ দেশে পর্যটন ব্যবসায় ধস নামছে। সংশ্লিষ্টদের উচিত কোনো প্রকার বাধা নিষেধ না রেখে সেন্টমার্টিনসহ তথা দেশের সব পর্যটন স্পটগুলো ঢেলে সাজানো। এতে সরকারের রাজস্ব রাড়বে কয়েকগুণ।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত সেন্টমার্টিন সম্পূর্ণ করোনামুক্ত বলতে পারি। পৃথিবীতে করোনা মহামারী পরিস্থিতি যখন চলছে তখনও আমাদের দ্বীপের মানুষ করোনামুক্ত ছিলো। দ্বীপে আমরা স্থানীয় প্রশাসন, কোষ্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশসহ সকলেই জনসচেতনতার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.