সাড়ে ৮’শ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের প্রসস্থকরণের কাজ চলছে

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
ভোলা জেলায় আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সাড়ে ৮’শ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহসড়কের প্রসস্থ করার কাজ চলছে। সদরের পরানগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে চরফ্যাশন উপজেলার বাবুর হাট বাজার পর্যন্ত প্রায় ৯৪ কিলোমিটার সড়কটি ৩০ ফুট প্রসস্থ করা হচ্ছে। বর্তমানে জেলার প্রধান এই সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্থ রয়েছে। দুই পাশে আরো ১২ ফুট বৃদ্ধি পেলে সড়কে শৃঙ্খলা আনায়ন, যানজট নিরোসন ও দুর্ঘটনারোধ করা অনেকটাই সম্ভব হবে। নিশ্চিত করা হবে সড়কের নিরাপত্তা। একইসাথে পূরণ হবে ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। ভোলা পরান তালুকদার হাট চরফ্যাশন চরমানিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় স্থানীয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে প্রকল্পের। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি প্রসস্থ করার কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এই সড়কটিতে ৪টি সরু বেইলি ব্রিজ ছিলো। সেগুলো ভেঙ্গে বর্তমানে পিসি গার্ডার ব্রিজ করা হচ্ছে। এগুলো হলো বঙ্খালি ব্রিজ, বোরহানউদ্দিন ব্রিজ, ডাওরী ব্রিজ ও শশীভূষণ ব্রিজ । বেইলি ব্রিজ দিয়ে দু’টি ট্রাক বা বাস পাশাপাশি যেতে পারতোনা, একটি সেতুতে উঠলে অন্যটি অপেক্ষা করত। তিনি বলেন, পূর্বের সেতুতে ধারন ক্ষমতা ছিলো মাত্র ৫ থেকে ৭ টন। আর বর্তমানে যেসব সেতু হচ্ছে এসবের প্রসস্থ হচ্ছে ৩৫ ফুট। এসব সেতু অনায়াসেই ৩০ টন বহন করতে পারবে। এছাড়া এই সড়কে মোট ৪৩টি কালভার্ট নির্মিত হচ্ছে। জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবিচ্ছিন্ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তরান্বিত করার জন্যই এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। কাজের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

নাজমুল ইসলাম আরো বলেন, বর্তমানে চরফ্যাশন যেতে সময় লাগে ২ থেকে আড়াই ঘন্টা। সড়কটি হয়ে গেলে সময় লাগবে মাত্র এক থেকে সোয়া ঘন্টা। দুই লেন সড়কটির প্রত্যেক লেনে ৬ ফুট করে প্রসস্থতার ফলে একটি বাস বা ট্রাক অন্যটির পাশ দিয়ে সহজেই যেতে পারবে। রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আশংকা থাকবেনা। এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে বরিশাল বিভাগের মধ্যে একমাত্র ভোলাতেই থাকবে এত দীর্ঘ প্রসস্থ সড়ক। ভোলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবদুল মমির টুলু বলেন, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে, সেখানে অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। ভোলা একটি প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ সম্ভাবনাময় জেলা। সড়কটি প্রসস্থকরণ সম্পন্ন হলে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য সহজেই আনা-নেয়া করতে পারবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রসার ঘটবে পর্যটন শিল্পের। তবে এর সাথে অবিলম্বে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ কাজ শুরুরও দাবি জানান তিনি। তাহলে সরাসরি অন্যান্য জেলা থেকে যানবাহন ভোলায় প্রবেশ করতে পারবে।

ভোলা স্বার্থ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রায় অপু মনে করেন, ভোলা-চরফ্যাশন সড়কটি প্রসস্থকরণ ভোলার জন্য আর্শিবাদ বয়ে আনবে। কারণ উন্নয়নের প্রধান শর্তই হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়া। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় পর্যটন, শিল্পায়ন ও সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তরান্বিত হবে। তিনি বলেন, একই সাথে আমাদের দাবি থাকবে সড়কটির মাঝখান দিয়ে ডিভাইডারের মাধ্যমে ওয়ানওয়ে ব্যবস্থা করা। একপাশ দিয়ে যাবে, অন্য পাশ দিয়ে আসবে। এতে করে দুর্ঘটনা ও যানজট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *