নৌকার সমর্থন না করায় বিজেপি নেতার বাড়িতে বোমা হামলা ॥ বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার সমর্থন না করায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ভোলা সদর উপজেলার সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন মানিক বাঘার বাড়িতে নৌকা প্রর্তীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহিরের বোমা হামলা, ভাংচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তিনি লিখিত অভিযোগে বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমার দল ভোটে অংশ নেয়নি। আগামী ৫ জানুয়ারী ভোলা সদর উপজেলাধীন পশ্চিম ইলিশা ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।উক্ত নির্বাচনে আমি যেন নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করি এবং প্রচার-প্রচারনায় নামি তার জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির আমাকে প্রচন্ড চাপসৃষ্টি করতে থাকেন। আমি তার আদেশ-নির্দেশ না মানায় গত রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরের নেতৃত্বে তার ক্যাডার জাহাঙ্গীর, জিন্নাহ ও আব্দুর রহমানসহ কমপক্ষে তিন শতাধিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আমার পশ্চিম ইলিশার বসত বাড়ীতে বৃষ্টির মতো বোমা হামলা করতে থাকে। ক্যাডাররা আমার দুই স্কুল পড়ুয়া নাতি ফাহিম এবং তাহিমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। অস্ত্রধারীরা আমার বসত ঘরে প্রবেশ করে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। জহির ও তার গুন্ডা বাহিনী আমার বেড রুমে প্রবেশ করে খাটের তোষকের নীচে রক্ষিত আমার বাড়ীর কাজের রড সিমেন্ট ও অন্যান্য জিনিষপত্র কেনার জন্য রাখা সাড়ে ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ক্যাডাররা আমার স্ত্রী ও ছেলেকেও বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। ঘটনার পর পুলিশ আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এসময় তিনি বলেন, এসকল অস্ত্রধারীরা নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকেই পুরো পশ্চিম ইলিশায় বোমা ফাটিয়ে স্বশস্ত্র মহড়া চালাচ্ছে। জহিরের নির্দেশ না মানলে মানুষের উপর হামলা আর জুলুম-নির্যাতন চালানো। ব্যবসায়ীদের দোকান তালা মেরে ব্যবসার কাজ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। পশ্চিম ইলিশার শান্তিপ্রিয় মানুষ এরকম তান্ডবলীলা অতীতে কখনো দেখেনি। একজন জহিরের কারনেই এখন পশ্চিম ইলিশার মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এবং নৌকা প্রার্থী জহিরের হামলা-হুমকিতে আমি ও আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ভোলার প্রশাসনের কাছে আমি ও আমার পরিবারের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয় আইনগত ব্যবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোলা পুলিশ সুপারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আস্বস্ত করেছেন। এদিকে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন মানিক বাঘা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পন্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। আমার নির্বাচনকে বানচাল করার লক্ষ্যে প্রতিপক্ষের সাজানো কথাগুলো তিনি পেশ করেছেন। এ ধরনের ঘটনা এই ইউনিয়নে ঘটেনি এবং আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।

আর ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *