চিরিরবন্দরে ধর্ষণের পরে অন্তঃসত্ত্বা সেই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী, কন্যাসন্তান নিয়ে বিপাকে পরিবার

মোঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব,দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায় ধর্ষণের পরে অন্তঃসত্ত্বা সেই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী (১৫) কন্যাসন্তান জন্ম দেয়।গত শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর ) সকাল ১০ টায় প্রসবের বেদনা ওঠে। কথা বলতে না পারায় কান্নাকাটি করছিল। স্থানীয় এক ধাত্রী মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করাই। এরপরই মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেলের সহায়তায় দিনাজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মা ও নবজাতক শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী ওই কিশোরী চলতি বছরের ২১ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় প্রতিবেশী এক নারী প্রায় সময় মন্দির ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে যেত। বিনিময়ে হাতে কিছু খাবার দিত। এই কারণে তিনি ডাকলেই সে চলে যেত । এক দিন ওই কিশোরী হাতে পায়জামা নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে আসে।

পরিবারের লোকজন তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে কিছু বলতে পারে না। পরে মেয়ের মা ওই বাড়িতে গেলে সেখানে শয়নকক্ষে দিপু চন্দ্র রায় নামে একজনকে দেখতে পায়। প্রতিবেশী নারীকে মেয়ের কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। পাশাপাশি কারও কাছে অভিযোগ না করতে হুমকি দেন।

এরপরে গত ২১ আগস্ট রাতে ওই প্রতিবন্ধী কিশোরী বমি করতে থাকে এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে পর দিন ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের সহযোগিতায় দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।সেখানে তিন দিন চিকিৎসা চলে। চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মেয়েটির পরিবার জানতে পারে, ওই কিশোরী ২১ সপ্তাহের গর্ভবতী। পরবর্তীতে গত ৩ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে কন্যাসন্তান প্রসব করে সে।

ঘটনার পর দিন কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে দিপু চন্দ্র রায়সহ চারজনকে আসামি করে চিরিরবন্দর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই রাতেই দিপু চন্দ্র রায়কে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

জন্ম নেওয়া শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীর পরিবার। বিশেষ করে ধর্ষণের শিকার হওয়া প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাবা একজন দিনমজুর ও মা প্রতিবন্ধী হওয়ায় নবজাতকের লালন-পালন নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কিশোরীর চাচি শিশুটির তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।

ওই কিশোরীর চাচা বলেন, একজন প্রতিবন্ধী মেয়ের সাথে এমন জঘন্যতম ঘটনা ঘটবে আমি জানতাম না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এই অসহায় পরিবারের জন্য কিছু একটা করার জন্য।

এ অবস্থায় প্রসব পরবর্তী জটিলতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করাও সম্ভব হচ্ছে না পরিবারটির পক্ষে। বাধ্য হয়ে ওসিসির সহযোগিতায় বুধবার (০৮ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার বলেন, মেয়েটির বাবার করা ধর্ষণ মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.