বোয়ালমারীতে ৯ আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ১৬ জন বিদ্রোহীর সাথে লড়তে হচ্ছে

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর:
চতুর্থ ধাপে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি নির্বাচন অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে আগামি ২৬ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে গত সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। মঙ্গলবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রতীক। এ নির্বাচনে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধুমাত্র সাতৈর ইউনিয়ন বাদে আর নয়টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের নয়জন মনোনীত প্রার্র্থীর পাশাপাশি ১৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

সাতৈরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. মজিবর রহমান। বিপরীতে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী হননি।
১৬জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে দাদপুর ও ময়নায় তিন জন করে, সদর, ঘোষপুর ও রূপপাতে দুইজন করে এবং চতুল, পরমেশ্বরদী, শেখর ও গুণবাহায় একজন করে।

দাদপুরে ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদুর রহমান। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শামীম মোল্লা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হারুন-অর-রশীদ।

ময়না ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা মৎস্যজীবী লীগের সদস্য পলাশ বিশ্বাস। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির মো. সেলিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কামরুজ্জামান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. সাইফুজ্জামান জিন্নাহ।
সদর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব মোল্লা। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক এলেম শেখ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আব্দুল হক শেখ।
ঘোষপুরে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি মো. চান মিয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মো. ইমরান হোসেন নবাব।

রূপাপাত ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি মহব্বত আলী। বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হেমায়েত হোসেন ও ইউপি যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. রবিউল শেখ।
চতুলে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার মো. আবুল বাশার। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. রফিকুল ইসলাম।

পরমেশ্বরদী ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. সোলাইমান মোল্লা। বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মান্নান মাতুব্বর।
শেখর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কামাল আহমেদ। বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

গুনবহা ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক কামরুল ইসলাম। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম।

বিদ্রোহী প্রার্থীর হওয়ার যুক্তি তুলে ধরে দাঁদপুর ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শামীম মোল্লা বলেন, আট বছর বয়স থেকে আওয়ামী লীগ পছন্দ করি। সঠিক ভাবে যাচাই বাছাই করে মনোনয়ন দিলে আফসোস ছিল না। তা করা হয়নি। তিনি বলেন, গতবার দলীয় প্রার্থী ছিলাম। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হেরেছি।

চতুল ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি জানতাম আমাকে মনোনযন দেওয়া হচ্ছে পরে দেখি অন্যের নাম। চতুল ইউনিয়নে আমার গ্রহযোগ্যতা অনেক। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের চাপে আমি প্রার্থী হয়েছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পীকুল মীরদাহ বলেন, বিদ্রোহী সদস্যদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহোরের অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা আমলে নেয়নি। ‘বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিস্কার করা হবে’- মন্তব্য করে পিকুল মীরদাহ বলেন, উপজেলা আওয়ামঅী লীগের সভাপতি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। তিনি এলেই এ বহিস্কারের ঘোষণা দেওয়া হবে।
এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫৬, সাধারণ সদস্য পদে ৩৫১ এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১১৭ জন। আগামী ২৬ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *