চাঁচড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করতে ‘ভাড়াটিয়া আওয়ামী লীগের’ অপতৎপরতা, যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

শাহারুল ইসলাম ফারদিন, যশোর:
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করতে ‘ভাড়াটিয়া আওয়ামী লীগাররা’ অপতৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চাঁচড়া ইউনিয়নে কিছু অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী লীগে এসে সব সময় নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেন। তারাই গত ইউপি নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে নৌকাকে পরাজিত করেন। আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে তারাই আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। বিশেষ করে যশোর জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ফুল এই ষড়যন্ত্রের মুল হোতা।

তিনি আওয়ামী লীগ যোগদান করেলেও সব সময় বিএনপির পক্ষে যায় এমন কাজ করেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে তারই নেতৃত্বে প্রচারণা চালানো হয়। গত শুক্রবার নৌকার প্রার্থী হিসেবে সেলিম রেজা পান্নুর নাম ঘোষণার পর থেকে এই চক্র আবারো নৌকার বিপক্ষে অপ্রচার শুরু করে। তারা প্রধানমন্ত্রীর নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে চাঁচড়া ইউনিয়নের প্রকৃত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাদের এই অপচেষ্টা প্রতিহত করবে।

এর আগে একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলিম রেজা পান্নুর মনোনয়ন বাতিলের দাবি করা হয়।
বলা হয়, তিনি একজন সন্ত্রাসী এবং অনুপ্রবেশকারী। এক সময় একটি ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে এর পক্ষে তারা কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

নৌকার মাঝি সেলিম রেজা পান্নুর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান।

তিনি বলেন, ‘যারা নৌকার প্রার্থী সেলিম রেজা পান্নুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাদের অধিকাংশই অনুপ্রবেশকারী। আওয়ামী লীগের খাতা-কলমে তাদের নাম নেই। তারা অধিকাংশই ভাড়াটিয়া আওয়ামী লীগার।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আগামী ৫ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর জেলা শ্রমিক লীগের শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা পান্নুকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সেলিম রেজা পান্নু একজন সফল মৎস্য চাষি। ২০১৪ সালে তিনি শ্রেষ্ট মৎস্য চাষি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন। গত করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেলিম রেজা পান্নু চাঁচড়া ইউনিয়নের প্রতিটি কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রীসহ নগদ অর্থ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। ঈদ ও পূজার মতো উৎসবেও তিনি সাধারণ গরীব মানুষের পাশে থাকবেন। তিনি চাঁচড়া ইউনিয়নের একজন জনপ্রিয় নেতা। তাকে নৌকার মাঝি করে আমাদের মাঝে পাঠানোয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বলা হয়, সেলিম রেজা পান্নু একজন পেশাদার চালক হিসেবে ২০০৪ সালে যশোর জেলা মোটর ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন। ওই সংগঠনটি বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তভূক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। যার বর্তমান সভাপতি সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান খান। এর আগে দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন পাবনা থেকে বার বার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওয়াজি উদ্দিন খান। এরপর ২০১৮ সালে তিনি যশোর জেলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তিনি কখনো বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চাঁচড়া ইউনিয়নের অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা সেলিম রেজা পান্নুর বিরুদ্ধে বেশকিছু মিথ্য অভিযোগ এনে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগ অনুপ্রবেশকারী বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি যে যুবদলের নেতা ছিলেন তার কোন প্রমাণ তারা দাখিল করতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি কখনো যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। তার মাকে বলা হয়েছে, জামায়াতের সক্রীয় কর্মী। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তার মায়ের বয়স ৭০ বছরের বেশি। তিনি ২০১৮ সালে পবিত্র হজব্রত পালন করে এসেছেন। তিনি গত বছর করোনা আক্রান্তও হয়েছিলেন। তিনি সব সময় বাড়িতেই থাকেন এবং তাদের বাড়িতে আসা মানুষকে নামাজ পড়ার দাওত দেন। এটাকেই তারা জামাত কর্মী হিসেবে প্রমাণ করছে। এছাড়া বলা হয়েছে, সেলিম রেজা পান্নুর মামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তার দুই মামার মধ্যে একজন শাহদাত রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। অপরজন শাহজাহান হোল্ডিং মিস্ত্রি। প্রতিবেশি একজনকে মামা বানিয়ে পান্নুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্য তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা তাদের অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজাহার আলী মোল্ল্যা, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লগের সভাপতি বেদারুল কাদের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লগের সভাপতি বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লগের সহসভাপতি মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদসহ বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *