যশোর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত, সম্মেলন আগামী বছর

শাহারুল ইসলাম ফারদিন,যশোর:
যশোরে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হয়েছে যুবলীগের বর্ধিত সভা। কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতাদের উপস্থিতিতে বর্ধিত এই সভায় যুবলীগের সকল মেয়াদ উত্তীর্ণ ইউনিটের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে । ছিলো সভাকে ঘিরে যুবলীগ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। যশোরে জেলা যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলো। আগামী বছরের ২৩শে জানুয়ারী সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে জেলা যুবলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি।

পহেলা ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে যশোর শহরের সিসিটিএস মিলনায়তনে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়। সভায় যোগ দেওয়া তৃণমূলের নেতারা বলেন, ‘গঠনতন্ত্র মেনে জেলা যুবলীগের কমিটি দেওয়ার জন্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো কমিটি তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা মানবেন না। কারণ, ১৫ বছর ধরে যশোরে যুবলীগের কমিটি গঠন হচ্ছে না। এমনকি বর্ধিত সভাও হয়নি। ত্যাগী বঞ্চিত নেতাদের মূল্যায়ন করে কমিটি দিবেন বলে আমরা আশা করছি।’ সভায় যশোর জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০০৪ সালে সর্বশেষ যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৫ বছরের মধ্যে সম্মেলন হয়নি। কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া কমিটি আমরা মানব না। আমরা যুবলীগের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে চাই। হাউসের সবাই যদি একমত থাকেন, তাহলে হাত তোলেন।’ এ সময় মঞ্চে বসা যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল সাইফুল জেলা যুবলীগ নেতাকে হাফিজুরকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি এই হাউসে এসব কথা বলছেন কেন? কোন পদ্ধতিতে যুবলীগের কমিটি গঠন হবে, তা নির্ধারণ করবেন একমাত্র কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

প্রধান অতিথির বক্ত্যবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সোহেল উদ্দীন বলেন, নতুন শক্তি নিয়ে জেগে উঠবে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। বাংলাদেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছেন। আর এই উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রাকে কোনো ষড়যন্ত্রকারী রোধ করতে পারবে না। তারই নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে যুবলীগকে এগিয়ে যেতে হবে।

জানা গেছে, তিন বছরের জন্য ২০০৩ সালের ১৯ জুলাই যশোর জেলা যুবলীগের সম্মেলন হয়। এতে মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীকে সভাপতি ও জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা যুবলীগের কমিটি হয়। ৫৩ সদস্যের এই কমিটির মেয়াদ ২০০৬ সালে শেষ হয়। এর পর পেরিয়ে গেছে ১৫ বছর। বর্তমান কমিটির সভাপতি পদত্যাগ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদের সাথে যুবলীগের পদেও যুক্ত রয়েছেন। একই অবস্থা উপজেলা যুবলীগের কমিটিগুলোতে। তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটিতে চার বছর পার হয়েছে সবগুলো উপজেলায়। ২০১৭ সালের ২১ মার্চ যশোর সদর ও শহর যুবলীগ এবং ২৯ মার্চ বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলা এবং এপ্রিল ও মে মাসে মণিরামপুর, কেশবপুর, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলা যুবলীগের তিন মাস মেয়াদী আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক যুবলীগের পদপ্রত্যাশী আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, যশোর ে জলা শাখার আয়োজনে আঠারো বছর পরে বর্ধীত সভা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা নেতৃীবৃন্দদের কাছে আশা করবো। বাংলাদেশের উন্নয়নে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নাই। তিনিই আজকে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে চালিত করেছেন। আর এই উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রাকে কোনো ষড়যন্ত্রকারী রোধ করতে পারবে না। নতুন কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যেন ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতৃত্ব স্থান পায় ।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, জেলা যুবলীগের কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন। তারা যুবলীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করেন না। আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতেও অনুপস্থিত থাকেন। যশোরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাই যুবলীগের কর্মসূচি পালন করছে। আমি করোনাকালে যুবলীগের ব্যানারে মানুষের পাশে ছিলাম। কৃষকের ধান কেটে দিয়েছি, ত্রাণ বিতরণ করেছি। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় যুবলীগের নেতৃত্বের বিকাশ হচ্ছে না। বর্ধিত সভায় দ্রুত সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করবে এমনটাই প্রত্যাশা।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, বিগত দুই দশক ধরে জেলা যুবলীগের সম্মেলন হয় না। আমরা যারা এক দশকের উপর যুবলীগের কর্মী হিসেবে তৃণমূলে কাজ করে যাচ্ছি তারা প্রচন্ড হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। দীর্ঘদিন সংগঠন গোছানোর কাজে শ্রম, সময় দিয়ে কাজ করার পরও কোন স্বীকৃতি না পেলে উদ্যম হারিয়ে ফেলবো। এরপর সামনে আবার জাতীয় নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে যুবলীগের কমিটি প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে যশোরে যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী বেশ উচ্ছ্বাসিত।

এই বিষয়ে যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, বর্ধিত সভার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা যুবলীগ। আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আগামীকাল বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক কর্মকা- গতিশীল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। এই সভার মধ্য দিয়ে জেলা যুবলীগ আরো গতিশীল হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত আরও শক্তিশালী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সোহেল উদ্দীন। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল। জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিরুল ইসলাম চাকলাদার, সহসভাপতি সৈয়দ মনির হোসেন ও সৈয়দ মেহেদী হাসান, সাংগঠিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠু প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে স্থানীয় নেতারা বলেন, ‘আমাদের আর্থিক কষ্ট রয়েছে। আপনাদের আমরা ঠিকমতো আপ্যায়িত করতে পারি না। আপ্যায়নের দিকে না তাকিয়ে প্রকৃত ত্যাগী নেতা–কর্মীদের মূল্যায়ন করে আগামী দিনে কমিটির নেতা বানাবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.