বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

শাহারুল ইসলাম ফারদিন, যশোর জেলা প্রতিনিধি:
সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ভাতা প্রদান ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএস) যশোর পৌরসভা ও যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় যশোর শিল্পকলা একাডেমি মিলতয়ন হল রুমে সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সন্মেলনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে সন্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য ও আব্দুল আলীম মোল্যা সভাপতি বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটি। অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মুস্তাক আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। এ সময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সাত্তার। আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে ছিলেন বিএপিএস এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম ও বিএপিএস এর সিনিয়র সহ সভাপতি আকতার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, নড়াইল পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, কেশবপুর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জ পৌর মেয়র আশরাফুল আলম, কালিয়া পৌর মেয়র ওয়াহিদুজ্জামান হীরা, পাইকগাছা পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, সঞ্চালনায় ছিলেন যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন ও খুলনা বিভাগীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব তাসমিন আলী লিলি।

সম্মেলনে খুলনা বিভাগের ৩৬ টি পৌরসভায় কর্মরত বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মুস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, আমাদের এগারো মাস থেকে বেতন বাকি এসব টাকা গত মেয়রের সময়ে বকেয়া পড়েছে। সেই টাকা আজও দেয়া হচ্ছে না। সারাদেশে তিন শ’ ২৮টি পৌরসভা। তার মধ্যে বেশিরভাগ পৌরসভার এক তৃতীয়াংশ কর্মচারীর বেতন বকেয়া রয়েছে। আমাদের বেতন যদি এভাবে বকেয়া পড়ে থাকে তাহলে সংসার চলবে কিভাবে? স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমনÍ্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশের উন্নয়নে প্রধানমনÍ্রী শেখ হাসিনার অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। উন্নয়নের ঢেউ এখন শহর ছাড়িযে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে গেছে। মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকেনা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাথাভারি প্রশাসন দেশের সংকট সৃষ্টির অন্যতম কারণ। পৌরসভায় কর্মরত কর্মচারীদের এগারো মাসের বেতন বন্ধ রাখার সরকারী সিদ্ধান্তের বিযয়ে নিজে অবগত নন দাবি করে তিনি বলেন, আমি হতবাক হয়েছি মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী সরকার এধরনের অগ্রহণযোগ্য আইন অনুমোদন দিতে পারেন না। কারণ এ আইন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না। এর পিছনে অন্যকোন ষঢ়যন্ত্র কাজ করছে কি না তা দেখতে হবে। তিনি বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দেশে সুসমবন্টন আইন চালু করার মহৎ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যা আমাদের দেশের জন্য বিশেষ প্রয়োজন ছিল। কন্তিু দেশের কিছু মাথাভারি প্রশাসন সেটা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। আজও বিভিন্ন সেক্টরে মাষ্টার রোলে নিয়োগের মাধ্যমে নানাবিধ সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছ।

এ সময় বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের বক্তরা বলেন তাদের একটাই দাবী তারা যেন সরকারী কোষাগার থেকে প্রতিমাসের বেতন প্রতিমাসে পান।তারা সকাল ৯ থেকে ৫ পযর্ন্ত অফিস করেন কিন্তু তারা প্রতিমাসের বেতন প্রতিমাসে পান না। অনেক পৌরসভার কর্মচারীরা তাদের ছেলের বেতন দিতে পারে না। ১৬ বছর চাকরি করার পরও তারা স্ত্রীর চিকিৎসা করতে পারে না। সর্বশেষে বক্তরা বলেন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যদি বেতন ভাতা না পান তাহলে তারা কঠোর আন্দোলন ডাক দিবেন। এ সময় বক্তারা সরকারেরকাছে অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়ে বলেন, পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন পৌরসভা থেকে নয় তাদের বেতন সরকারি কোষাগার থেকে দিতে হবে। তা না হলে তারা দাবি আদায়ের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *