সিনেমা হলের আগেই কুয়াকাটার শুটিং স্পটে মুক্তি, সিনেমা নোনা জলের কাব্য

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ,কুয়াকাটা:
নোনা জলের কাব্য যেখানে তৈরি হয়েছিল গভীর সমুদ্র পাড়ে জেলে পল্লীগুলোতে,আজ সেই স্থানটি সমুদ্রের ভাঙ্গনের কবলে পড়ে চলে গেছে , তবে স্মৃতির পাতায় রয়ে গেছে নোনা জলের কাব্য সিনেমার মাঝে, ২৬ নভেম্বর ২০২১  মুক্তি দেওয়া হবে বাংলাদেশে , তার আগে নতুন ভাবে সেই শুটিং স্পটে ২২ নভেম্বর,(সোমবার) হাজারো মানুষের মাঝে  প্রদর্শন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত  নোনা জলের কাব্য চলচ্চিত্র, বড় প্রজেক্টের  ভাসানো ব্যানারে লেখা হয়ে ছিলো, জেলোদের ছবি, জেলেরাই দেখবে সবার আগে। এমন স্লোগান ঘিরে কুয়াকাটায় ও চরগঙ্গামাতিতে  বড়পর্দায় উঠেছে নোনা জলের কাব্য সিনেমা,

সকাল ১০টায়, কুয়াকাটায় প্রকাশ করা হয় সিনেমা, এরপর রাত ৭টায় দিকে জেলেপল্লী চরগঙ্গামাতিতে হাজারো মানুষের মাঝে প্রদর্শন করা হয়, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের প্রথম চলচ্চিত্র নোনা জলের কাব্য।

এ সময় উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠান  কুয়াকাটার চর গঙ্গামতিতে উপস্থিত ছিলেন। পটুয়াখালী  জেলা প্রশাসক,মোঃ কামাল হোসেন, সিভিল সার্জেন্ট মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আবু হাসনাত মোঃ শহিদুল  হক, উপজেলা সহকারী কমকর্তা ভূমি, জগৎ বন্ধু মন্ডল সহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত, ছবির মূল চরিত্রের অভিনেত্রী তাসনুভা তামান্না সহ স্থানীয় আর্টিস্ট গণ৷

৬৪তম বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘অফিশিয়াল সিলেকশন’ পেয়েছে সুমিতের এই ফিচার ফিল্ম। জেলেপাড়ার জীবন নিয়ে এই ছবিতে অভিনয় করেছেন, ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ, তিতাস জিয়া, তাসনুভা তামান্না, অশোক ব্যাপারী, আমিনুর রহমান, কুয়াকাটার অভিনয় করেছেন মোঃ রেজাউল করিম, বাবুল, নেছার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ সহ অনেকে। ২০১৮ সালের ১৩ জুলাই অর্ধশতাধিক শিল্পী ও কলাকুশলী মিলে ঘোর বর্ষায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ও চট্টগ্রামে শুটিং শুরু হয়ে শেষ হয় অক্টোবরের ৩ তারিখে। ছবির সংগীতায়োজন করেছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব। প্রযোজক ও কলাকুশলীদের অনেকেই ভিনদেশি।

রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘নোনা জলের কাব্য’। এক বছর ধরে নানা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব মাতিয়ে এবার সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে হলে দেখা যাবে ছবিটি। এর পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স, তার আগে যেখানে তৈরি হয়েছিল ছবি সেখান কার মানুষের মাঝে প্রকাশ করা হয়েছে।

ছবিটি প্রযোজনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত ও ফরাসি প্রযোজক ঈলান জিরাদ। জিরাদ ‘মার্চ অব দ্য পেঙ্গুইন’, ‘গুডবাই বাফানা’, ‘ফাইনাল পোর্ট্রেট’-এর মতো বিখ্যাত কিছু চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। সিনেমাটির সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত থাই শিল্পী চানানুন চতরুংগ্রোজ। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ছবিটির নির্মাণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর হাফ স্টপ ডাউন। সম্পাদনা করেছেন আমেরিকার ক্রিস্টেন স্প্রাগ, রোমানিয়ার লুইজা পারভ্যু ও ভারতের শঙ্খ। শব্দ ও রঙ সম্পাদনার কাজটি হয়েছিল প্যারিসের দুটি বিখ্যাত স্টুডিওতে।

ছবিতে অভিনয় করে স্থানীয় অভিনেতা, রেজাউল করিম বলেন ,আমি আজ মুগ্ধ আমাদের নিয়ে বানানো চলচ্চিত্র আজ বিশ্বের কাছে পরিচিতি পেয়েছে।

পরিচালক, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত, বলেন, জেলেপল্লীর এবং জেলেদের জীবনী নিয়ে আমার চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করি, ইতিমধ্যেই এই চলচ্চিত্র বিশ্বের কাছে একটি বড় স্থান পেয়েছে, আমি আশা করি এই চলচ্চিত্র দেশের মানুষ দেখবে এবং এই কুয়াকাটার সুন্দর রূপ ও জেলেদের  দৃশ্য উপভোগ করবে, দেশ বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা।

পটুয়াখালী  জেলা প্রশাসক,মোঃ কামাল হোসেন জানান, আমি ছবিটি মন দিয়ে দেখেছি, একদম জেলেপল্লীর বাস্তব চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে, এই ছবিতে যারা অভিনয় করেছে সবার অভিনয় অসাধারণ, তবে পরিচালকের ভাবনাকে আমি সাধুবাদ জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *