মা পরীক্ষার হলে, নানীর কোলে ঠাই হলো শিশু আলীর

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
চলমান এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার সমাপনী দিনে ভোলার লালমোহন পৌর শহরের বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে অভিভাবকদের ভিড়। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটো রিকসার ভেতরে ছোট্ট শিশুর কান্নার আওয়াজ। মা ছাড়া যেন এ কান্না থামানোর কোনো সুযোগ নেই।

এগিয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটিকে কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন এক মহিলা। তার সাথে আলাপকালে জানা যায়, শিশুটি তার নাতি, নাম মো. আলী, বয়স এক মাসও পেরোয়নি। আলীর মা লাইজু বেগম লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। বছরখানেক আগে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের প্যারিমোহন গ্রামের ইমন দর্জির সাথে বিয়ে হয়েছিল লাইজুর। এদিকে সন্তান কোলে যেহেতু পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ নেই, তাই শিশু আলীকে নানীর কোলে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছে মা লাইজু বেগম। এদিকে, খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে ‍এক বছর বয়সী নাতনি সামিয়াকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নানি রেনু বিবি। আর সামিয়ার মা সুমি আক্তার উপজেলার কালমা ইউনিয়নের বালুচরহাট দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আলাপকালে রেনু বিবি জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে ঢাকায় খালার বাসায় বেড়াতে যায় সুমি আক্তার। প্রায় দুই বছর আগে সেখানেই সাদ্দাম নামে এক ছেলের সাথে বিয়ে হয় তার। পরীক্ষা শুরু হলে ঢাকা থেকে শিশুকন্যা সামিয়াকে নিয়ে এলাকায় এসে পরীক্ষায় বসেছে সুমি। তাই নানির কোলেই ঠাঁই হয়েছে শিশু সামিয়ার।

লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে কিছু অসচেতন পরিবার তাদের সন্তানদের বিয়ে দিয়েছে। তবুও যেহেতু ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, এটা অবশ্যই ভালো দিক। আমরা এসব শিক্ষার্থীর পড়াশুনা অব্যাহত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এছাড়াও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *