রাস উৎসব ঘিরে কুয়াকাটায় মেতে উঠেছে পর্যটকের আনন্দ

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ -কুয়াকাটা:
সাগরকন্যা খ্যাত পটুয়াখালীর কুয়াকাটার শতবছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবকে ঘিরে মেতে উঠেছে সাগরকন্যার ১৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। লেম্বুর চর থেকে চর গংগামতি পর্যন্ত প্রতিটি দর্শনীয় স্থান সাজ-সাজ রব। প্রতি বছরের ন্যয় এবারও কুয়াকাটার শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের আয়োজনে করা হয়েছে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান। যা দেখার জন্য দেশি বিদেশি লক্ষ্য লক্ষ্য দর্শনার্থিরা আসেন। রাস পূর্ণিমায় পূন্য স্নানের জন্য হাজির হয়েছেন বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষ্ণভক্তরা।

পূজা আয়োজন কমিটির সভাপতি অনন্ত মুখার্জি জানান সকলের সহযোগিতায় কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই স্নানের মধ্য দিয়ে আমরা রাস পূজা শেষ করতে পেরেছি।

এদিকে রাস পূজা ঘিরে মেলার আয়োজন না থাকলেও দেশি বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও নজরে আসে কুয়াকাটার আশেপাশের গ্রাম গঞ্জে থেকে হাজারো মানুষ রাস লীলা দেখার জন্য এসেছে তার সাথে সাথে কুয়াকাটা স্থানীয় দোকানগুলো থেকে খেলনা জিনিস কিনে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন।

কুয়াকাটার স্থায়ী বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, আমি আমার ছেলে মেয়েকে নিয়ে রাস মেলায় এসেছি, এসে দেখি রাস পূজা হবে তবে মেলা নিষেধ , তারপরও অতীতকে ধরে রাখতে স্থায়ী দোকান থেকে ছেলে মেয়ের জন্য খেলনা কিনেছি , আমি মনে করি এবার রাস পূজা যে পরিমাণ লোক এসেছে তার চেয়ে অধিক আসতো যদি মেলাটা থাকতো , কারণ কুয়াকাটায় অল্প দামে কেনা কাটার জন্য বছরে বড় মেলা বসে এই রাস মেলা , সামনে ঐতিহাসিক রাস মেলা টিকে থাকুক ৷

কুয়াকাটা একাধিক হোটেল মালিক জানান ছুটির দিনে রাস উৎসব হওয়ায় কোনো রুম খালি ছিলনা।
সৈকতের ফটোগ্রাফার, বাইক রাইডার, বোট রাইডার, ফিশ ফ্রাই দোকান সহ অন্যান্য ক্ষুদ্র বাবসায়ীদের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ।
কুয়াকাটায় তিন ধর্মের মানুষের ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলা।

কুয়াকাটা পৌর প্যানেল মেয়র মনির শরীফ সংবাদ সংগ্রহ কালে প্রতিনিধিদের বলেন, আমরা কুয়াকাটাবাসী অনেক সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির। সৈকতে আমাদের মসজিদের বাউন্ডারির পাশেই মন্দিরের বাউন্ডারি রয়েছে। এটা বাংলাদেশের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে সকল সহযোগিতা দেয়া হয়েছে রাস পূজা সম্পন্ন করার জন্য ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *