ভোলায় সমন্বয়হীনতায় করোনার টিকা নিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
গত ১৩ নভেম্বর থেকে সারাদেশের ন্যায় ভোলাতেও শুরু হয়েছে ১২ থেকে অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়ার কার্যক্রম। কিন্তু ভোলার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে করোনার এ টিকা নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রথমে শুধু জন্ম নিবন্ধনের কার্ডের ফটোকপি দিয়ে টিকা দেয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় টিকা নিতে এসে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। এমনকি গত দুই দিন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকা না পেয়ে বাড়ি ফিয়ে গেছেন অনেক শিক্ষার্থী। এতে করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী ও অভিবাকরা। তবে এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও শিক্ষা বিভাগ একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, টিকা নেয়ার জন্য প্রথমে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে শুধু জন্ম নিবন্ধন কার্ডের ফটোকপি নিয়ে টিকা কেন্দ্রে আসতে বলা হলেও কেন্দ্রে এসে জানতে পারেন শুধু এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে। এ ঘোষণার পর প্রথম দিন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন কার্ড দিয়ে টিকা দিলেও দ্বিতীয় দিন নতুন করে টিকার ফরম পূরণ করে আনতে বলা হয় কেন্দ্র থেকে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড়ালেও কেন্দ্রগুলোতে কয়েক ঘণ্টা টিকা দেয়া বন্ধ রাখা হয়। টিকাদান কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানায়, নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে না আনলে টিকা না দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ভোলার জেলা পরিষদ ও জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুইটি টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, টিনা নেয়ার অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা বাইরে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাদের টিকা দেয়া হচ্ছে না।

আলাপকালে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা ৯টার আগেই টিকা দেয়ার জন্য কেন্দ্র এসে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সময়মত টিকা দেয়া শুরু না করে সাড়ে ৯টার দিকে টিকাদান কেন্দ্রের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের জানান, স্বাস্থ্যবিভাগের কোভিড ভ্যাকসিন ফরম পূরণ করে তা জমা দিলেই টিকা দেয়া হবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য বিভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে জনিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা টিকাকেন্দ্রে আসা কোনো শিক্ষার্থীরাই জানেন না। এমনকি টিকাদান কেন্দ্রে কক্ষের সামনে এরকম কোনো নির্দেশনাও লেখা নেই। ফলে সকাল থেকে কয়েকশ শিক্ষার্থী কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেও তারা টিকা দিতে পারেনি। অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে টিকা না নিয়েই দ্বিতীয় দিনের মত বাড়ি ফিরে গেছেন।

টিকা নিতে আসা ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি শেখ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ, ভোলা সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়েছে ১৩ তারিখ থেকে জেলা পরিষদ ও জেলা শিক্ষা অফিস কেন্দ্রে করোনার টিকা দেয়া হবে। যাদের বয়স ১২-১৮ হয়েছে তারা শুধু জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপিতে নাম, মোবাইল নম্বর, শ্রেণি ও রোল নম্বর লিখে কেন্দ্রে জমা দিলেই কেন্দ্রগুলো থেকে এ টিকা নেয়া যাবে। কিন্তু প্রথম দিন তারা সকাল ৯টা থেকে ৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা দিতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছেন। দ্বিতীয় দিন টিকা দিতে আসলে কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, টিকার নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে আনতে হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের এরকম কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। ফলে টিকা না নিয়েই এখন তাদের বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। তাদের সামনে পরীক্ষা থাকায় টিকা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে এক দিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের পড়ালেখার ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সারাদেশের ন্যায় ভোলাতেও ১২ থেকে ১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথমদিন ভোলাতে ৮৮৮ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিদিন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুইটি কেন্দ্রে ৩০০ জন করে মোট ৬০০ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার কথা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৮৫ হাজার ৭৯৬ জন শিক্ষার্থীকে ফাইজারের টিকা দেয়া হবে।

ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসার মাদব চন্দ্র দে জানান, প্রথমে স্বাস্থ্য বিভাগের সিদ্ধান্ত ছিল শুধুমাত্র জন্ম নিবন্ধন নিয়ে আসলেই তাদের টিকা দেয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা চারটি কলেজে জানিয়ে দিয়েছি। শনিবার টিকা কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরবর্তীতে শনিবার রাতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি ফরম দিয়ে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের এ ফরম পূরণ করে নিয়ে আসতে হবে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রতিটি কলেজের প্রধানদের সাথে মিটিং করে বিষয়টি জনিয়ে দিয়েছি। টিকা দেয়ার বিষয়টি প্রথমে একটু সমস্যা হলেও দুই একদিন পর তা ঠিক হয়ে যাবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

সিভিল সার্জন ডা. কে. এম শফিকুজ্জামান জানান, আমরা শিক্ষা বিভাগকে জানিয়ে দিয়েছি যে, আপনারা শিক্ষার্থীদের তালিকা করে আগের দিন আমাদের দিলে আমরা গিয়ে তালিকা দেখে টিকা দিয়ে দেব। প্রথমে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের টিকা দেব। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও টিকা দেয়া হবে। তবে দেখা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে না পাঠানোর কারণে আমাদের টিকা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উচিত জেলা প্রশাসনের সাথে বিষয়টি সমন্বয় করে তারা আমাদের তালিকা দেবে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠাবে আমরা তালিকা দেখে টিকা দিয়ে দেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *