বাগাতিপাড়ায় পদ শূন্যর কারণে বিপাকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

মোঃ রাশেদুল আলম রুপক, নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ 
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায়   দীর্ঘ দিন থেকে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ‘র পদ শূন্য থাকায় বিপাকে প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম। 

 উপজেলার ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে শূন্য। এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কয়েক বছর থেকে ডেপুটেশনে এবং একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সাবরিনা আনাম ২০১৫ সাল থেকে ডেপুটেশনে ছিলেন। গত মাসে সেই ডেপুটেশন বাতিল হলেও তিনি এখনো কাজে যোগ দেননি। আবার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মজনু মিয়া ২০২০ সালের অক্টোবরে বদলি হয়ে জেলার সিংড়া উপজেলায় যোগদান করায় সেই পদটিও শূন্য রয়েছে।

আরও জানা গেছে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টিতে প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। আর ১৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই ১৮টির মধ্যে আবার নতুন সরকারি ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নে নামো হাটদৌল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাঁকা ইউনিয়নে তকিনগর সরকারি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাই উপজেলায় ৩টি পদের বিপরীতে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রওশন কামাল বলেন, ‘আমাদের স্কুলে দেড় বছরের বেশি প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়টি কেন্দ্রীয় স্থানে হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার উপজেলা পর্যায়ের সকল কার্যক্রম এখানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ ছাড়া আদালতে বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে। এর ফলে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’ 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনজন শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দুজন নেই। বিশেষ করে প্রধান কর্মকর্তা না থাকায় পুরো উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার কর্মকর্তা একজন হওয়ায় শিক্ষকেরাও বিভিন্ন সময় নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছেন অথবা মিটিংয়ে আছেন, সেই সময় শিক্ষকেরা অফিসে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রধান কাজ বিদ্যালয় পরিদর্শন করা। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় সেই কাজে ঘাটতি পড়েছে। আবার বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশগ্রহণ এবং তিনজনের কাজ একা করতে গিয়ে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ 

কাজে যোগ না দেওয়ার ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সাবরিনা আনাম বলেন, ‘আমার ডেপুটেশন বাতিল হয়নি। আমি এখনো রাজশাহী ডিডি অফিসে কর্মরত আছি।’

নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাগাতিপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ডেপুটেশন বাতিলের চিঠি পেয়েছিলাম। তবে তিনি আবার সেটি স্থগিত করিয়েছেন কি না, এই ব্যাপারে জানা নেই। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ২০১৩ সাল থেকে বন্ধ থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, আশা করি অল্প দিনের মধ্যে সেটি পূরণ হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *