যশোরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনামূলক আন্তঃধর্ম সংলাপ সেমিনার অনুষ্ঠিত 

শাহারুল ইসলাম ফারদিন, যশোর জেলা প্রতিনিধি:
যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেছেন, ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমরা যদি ব্রিটিশ আমলের শাসন ব্যবস্থা লক্ষ্য করি দেখি, তারা খুবই চতুর ছিলো। তারা আমাদের দেশে যখন কর্ম স্থাপন করে তখন তারা আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ধর্মীয় অনুভূতি সবকিছু সম্পর্কে অবগত হয়েছিলো। তারা সবকিছু অবগত হয়ে চিন্তা করেছিলো যে এই দেশে যদি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে হয় তাহলে আমাদের মধ্যে ভাঙ্গন ধরাতে হবে। তখন তারা চিন্তা করলো একমাত্র ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে আমাদের মধ্যে ভাঙ্গন ধরানো সম্ভব এবং তারা এই পথ অবলম্বন করে এদেশে শাসন ব্যবস্থা চালিয়েছিলো। তাই এর থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি, যখন একটা সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করা যায়, সম্প্রীতিটা নষ্ট করা যায়, সেখানে কোন ধর্মে বা কোন ব্যক্তির লাভ হয় না সেখানে সবসময় লাভ হয় তৃতীয় পক্ষের। আর কাজটা হবে আমরা কখনোই তৃতীয় পক্ষকে লাভবান হতে দিবো না। আমাদের মধ্যে সবসময় সম্প্রীতি, ধর্মীয়বোধটাকে জাগ্রত রাখবো।

মঙ্গলবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনামূলক আন্তঃধর্ম সংলাপ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিটা ধর্মেই শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলা আছে। কোন ধর্মেই একজন আরেকজনকে আঘাত করার কথা বা বিদ্বেষ সৃষ্টির করার কথা নাই। আমরা ইসলাম ধর্মের কথা বলি, ইসলাম মানেই শান্তি, ইসলাম মানেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। আমরা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত। তিনি কখনো কোন ধর্মে প্রতি বিদ্বেষমূলক কথা বলেন নাই। তাঁর কথায় কোন ব্যক্তি আঘাত পাক তা বলেন নাই। সবসময় তিনি শান্তি ও সহনশীলতার কথা বলেছেন। মক্কা বিজয়ের সময় তাঁর উপর অনেক অত্যাচার হয়েছিলো। তিনি পারতেন মক্কাতে অন্য ধর্মাবলম্বী যারা ছিলো তাদেরকে বিনাশ করে দিতে পারতেন। সেই শক্তি, সামর্থ্য তাঁর ছিলো কিন্তু তিনি তা করেন নি। তিনি সহনশীলতার কথা বলেছেন। আমাদের ধর্মতেই শান্তির কথা বলা আছে। যে যার ধর্ম শান্তিমত পালন করবে। ঠিক অন্যান্য ধর্মতেও কাউকে আঘাত করার কথা বলা নাই। ধর্মীয় অনুভূতি যাদের মধ্যে প্রখর তারা অন্য ধর্মের ব্যক্তিকে বা অনুভূতিকে আঘাত দিয়ে কথা বলতে বা কাজ করতে পারে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী আছে তারা সবসময় ধর্মটাকে ব্যবহার করে ফায়দা লুটতে। তারা সবসময়ই ধর্মকে পুঁজি করে নিজের স্বার্থকে হাসিল করে। কিন্তু আমরা সচেতন হয়েছি এবং আপনাদেরও সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। যে জ্ঞান আপনারা লাভ করেছেন সে জ্ঞান যেন সমাজের বিবেদ সৃষ্টি কাজে না লাগে। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলার কাজে লাগে। আমরা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে আছি। বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক নেতা ছিলেন। তাঁর একটা বক্তব্য আমাকে খুবই আন্দোলিত করে। তিনি বলেছিলেন “এদেশ হিন্দুর না, এদেশ মুসলিমের না, এদেশ তার যে এদেশটিকে ভালোবাসে। এদেশের মানুষের দুঃখ দেখলে যার মন কাঁদে, এদেশের মানুষের আনন্দ দেখলে যার মন আনন্দিত হয়, এদেশ তার “। আসলেই একথাটি সত্য। বঙ্গবন্ধুর এ বাংলাদেশে যখনই কোন ধর্মীয় উৎসব হয় তখন আমরা সবাই মিলে তা পালন করি। অন্য দেশে যাই ঘটুক না কেন আমরা তা আমাদের দেশে চাই না। আমরা যেভাবে শান্তিতে, সম্প্রীতিতে ছিলাম আমরা তাই-ই থাকবো। আর ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে কখনোই ভালো থাকা যায় না। আমরা সবসময়ই শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায় বিচারের মধ্যেই থাকবো।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন যশোর পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি পলাশ, সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুণ্ড, মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভিন সাথী প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *