বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই এক শিক্ষক বহিস্কার, শিক্ষকের উপর ছাত্র ছাত্রীদের ক্ষোভ

মোঃ রাশেদুল আলম রুপক, নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ
এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ভুল নির্দেশনা দেয়ায় এক শিক্ষককে ৫ বছরের জন্য সমস্ত পাবলিক পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে বাগাতিপাড়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ওই ঘটনা ঘটে। শিক্ষক জয়নুল আবেদীন সেন্টু ওই বিদ্যালয়েরই শিক্ষক।

জানা গেছে, প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বিষয়ে ২৫টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের বিপরীতে ১২ টির উত্তর দেওয়ার নিদর্শনা ছিল। কিন্তু শাখা কেন্দ্র বাগাতিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে হল সুপারের দায়িত্বে থাকা ওই শিক্ষক সেন্টু পরীক্ষার্থীদের ২৫ টি প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়ার নিদর্শনা দেন। এর ফলে পরীক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত সময়েই তাড়াহুড়ো করে উত্তর গুলো দেয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়ার পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরীক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানতে পারে ওই শিক্ষক ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তখন ওই কেন্দ্রের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী দয়ারামপুর কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের পরীক্ষার্থীরা আবার কেন্দ্রে চলে আসেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে ইউএনও শিক্ষা বোর্ডের সাথে কথা বলে সমাধান করেন এবং ওই শিক্ষক কে বহিষ্কার করেন।

কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের পরীক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান মারুফ বলেন, ওই শিক্ষকের ভুল নির্দেশনার কারণে আমাদের তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী সালমান রহমান বলেন, আমি উনাকে বলি আপনি আমাদের এ রকম কথা বলেতে পারেন না, বলায় তিনি আমার খাতা নিয়ে রেখে দেয় বেশ কিছু সময়, এতে আমার সময় নষ্ট হয়।

ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, শিক্ষা বোর্ডের সাথে কথা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন যেহেতু ভুল হয়ে গেছে তাই তারা বাড়তি সুবিধা পাবেন। ওই কেন্দ্রে থাকা শিক্ষার্থীরা যারা ২৫টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তাদের সবগুলোই দেখা হবে। তবে তার মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ নাম্বার তারা পাবেন। আমরা তাঁদের নির্দেশনা মতো ওই কেন্দ্র বাগাতিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে থাকা ১৭০ জন পরীক্ষার্থীর রোল এবং প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রসহ লিখিত বোর্ডে পাঠিয়েছি। এবং ওই শিক্ষক কে ৫ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *