মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর বহন করেই পুলিশে নির্বাচিত হয়েছেন

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
ভোলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (বিপিএম-পিপিএম) বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশি ট্রইনিং রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরিক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মাননীয় আইজিপি স্যার এর উদ্যোগে একটি সম্পন্ন নতুন নিয়মের মধ্যে দিয়ে এই কনস্টেবল নিয়োগ পরিক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিক্ষায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সম্পন্ন মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর বহন করেই নির্বাচিত হয়েছেন। এই নিয়োগ পরিক্ষায় কোন দালাল বা অন্য কোন ব্যক্তির কোন রকমের প্রভাব ছিলো না। সম্পন্ন প্রভাব মুক্ত পরিবেশে আমরা টিআরসির নিয়োগ পরিক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।

জেলা পুলিশের আয়োজনে ভোলা পুলিশ লাইন্স এ বাংলাদেশ পুলিশি ট্রইনিং রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরিক্ষা-২০২১ ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ সব কথা বলেন। পুলিশ সুপার বলেন, বিগত সময়ে এই কনস্টেবল নিয়োগ পরিক্ষা বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে ৭/৮ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্যের সহ নানা কথা শুনা যেতো। এই সকল কিছু ইতিহাসে ছিলো ইতিহাসেই থাকবে, আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। নতুন নির্বাচিত পুলিশ সদস্যরা নতুন সতাবদির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। বাংলাদেশ পুলিশকে আরও জনবান্ধন করতে সহায়তা করবে। এই মুজিব বর্ষে আধুনিক পুলিশ গঠনে তারা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে নতুন দিনের নতুন পুলিশ হিসেবে কাজ করবে এবং পুলিশকে আরও মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাবে এই প্রত্যাষা ব্যক্ত করেন তিনি।

জেলা পুলিশ এর তথ্য মতে,পুলিশ হেডকোয়াটার্সের সার্বিক তত্বাবধানে ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে পরিক্ষায় প্রার্থীকে সরকারি কোষাগারে একশত টাকা চালানে ৩১ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী মোট ৩৭ জনের বিপরীতে ভোলা জেলায় ট্রইনিং রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরিক্ষায় শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এক হাজার ৪৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রাথমিক ভাবে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরিক্ষায় ৭ টি ইভেন্ট এর মাধ্যমে ৪১১ জন প্রার্থীকে লিখিত পরিক্ষার জন্য বাছাই করা হয়। লিখিত পরিক্ষায় বিভিন্ন কোটায় ৯৪ জন কৃতকার্য হয়। এবং তারা মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে ৩৭ জন প্রার্থী প্রথমিক ভাবে নির্বাচিত হয় এবং ৬ জন প্রার্থী অপেক্ষমান হিসেবে নির্বাচিত হয়। এবার পুলিশের কনেস্টবল পদে প্রথম স্থান অর্জন করে উত্তির্ন হওয়া বোরহানউদ্দিন উপজেলার এক কৃষক বাবার মেয়ে ফাতেমা আক্তার বলেন, আমি ছোট থাকতেই আমার বাবার সপ্ন ছিলো

আমি পুলিশ অফিসার হই, জনগণের সেবা করি। ছোটবেলা থেকেই আমাকে বাবা উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। আজ ২০২১ সালে আমি আমার বাবার সপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। একই রকম সদর উপজেলার জাকিয়া বেগম বলেন, আমার বাবা একজন অটোড্রইবার তার উপার্জীত আয়ে আমাদের সংসার চলাচলে হিমসিম খেতো। বাবার সপ্ন ছিলো আমরা পড়াশোনা করে যাতে আমরা কিছু করি বাবার পাশে দাড়াই সচ্ছলতা প্রধানে সাহায্য করি। আর আমার ছোট বেলা থেকে সপ্ন ছিলো বাহিনীতে কাজ করারা। আজকে ফলাফলে মাধ্যমে আমার ও আমার পরিবারের সপ্ন পূরন হয়েছে।

সদর উপজেলার জাবের হোসেন বলেন,আমার বাবার ইচ্ছে ছিলো আমি সেনাবাহিনীতে যোগদান করি ও মা এবং আমার ইচ্ছে ছিলো আমি বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করবো। আমরা দুই ভাই জমজ জবাবের হোসেন ও জোবায়ের হোসেন। আমরা একই সাথে গত ১০ তারিখ সেনাবাহিনীর নিয়োগ পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করি এবং একই দিনে আমাদের দুই ভাইয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি হয়। কিন্তু আমার মায়ের ইচ্ছে পূরণ ও আমার ইচ্ছে পূরণের জন্য আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জয়েন না করে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করতে যাচ্ছি। যাতে করে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে দেশের মানুষকে সর্বউচ্চ সেবা দিতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *