নির্বাচনের আগেই ব্যক্তি গত উদ্যোগে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইউপি প্রার্থী

মাসুম বিল্লাহ, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
সাধারণত ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নিয়ে হাজির হন প্রার্থীরা। নির্বাচিত হলে কী কী করবেন, সেই ফিরিস্তি দিয়ে নির্বাচনে জিততে চান। কিন্তু বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের পারভবানীপুর এলাকায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর আর তর সইছে না! তিনি ভোটের আগেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তবে এমন কর্মকাণ্ডকে আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মহসীন মমিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্বাচনের আগেই স্থানীয় একটি রাস্তা তৈরি করে দিচ্ছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্য প্রার্থী ও সমর্থকেরা যখন প্রচারণায় ব্যস্ত তখন তিনি এলাকার রাস্তা তৈরির অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। মমিন খামারকান্দি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।  

সরেজমিনে দেখা যায়, পারভবানীপুর আমতলা বাজারের পূর্ব দিক থেকে উত্তর দিকে ৩০০ মিটার এবং আজিজ মেম্বারের বাড়ি থেকে ভোলার বাড়ি পর্যন্ত ৩০০ মিটার কাঁচা রাস্তায় ইট বিছানোর কাজ চলছে। 

কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মহসীন মমিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই কাজ করছেন।  

বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আব্দুল ওহাব এ বিষয়ে বলেন, একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার কয়েকটি রাস্তায় কাজ করছেন, নির্বাচনের ৫ দিন আগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমি এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার তীব্র নিন্দা জানাই। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোছা. শামসুন্নাহার শিউলী বলেন, বর্তমানে উপজেলা প্রকল্পের আওতায় আমাদের কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প চলমান নেই।  

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, বর্তমান অর্থবছরে উপজেলার কোথাও আমাদের কোনো কাজ চলমান নেই। 

এলজিইডির রাস্তা কোনো ব্যক্তি সংস্কার করতে পারেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই রাস্তাগুলো আমাদের আওতাধীন কি-না নিশ্চিত নই। তবে কেউ এমন করতে চাইলে অবশ্যই আমাদের অনুমোদনের দরকার আছে।  

নির্বাচনকে সামনে রেখে একজন প্রার্থী এ ধরনের উন্নয়ন কাজ করতে পারেন কি-না জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. আছিয়া খাতুন বলেন, ওই প্রার্থী এ কাজ করে থাকলে অবশ্যই আচরণবিধির লঙ্ঘন করেছেন।  

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা অবশ্যই নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে জানার জন্য ওই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মহসীন মমিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি জবাব দেননি। 

দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বগুড়ার শেরপুরের ৯টি ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *