পটুয়াখালীতে উচ্ছেদ হওয়া চরগঙ্গামতি ২২টি পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, কুয়াকাটা,পটুয়াখালী:
বাপ দাদার ভিটা বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, এখন আমরা নিশো কোথায় যাবো কি করবো। বনবিভাগ কতৃক বিনা নোটিশে ২২  অসচ্ছল জেলে পরিবারকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের চরগঙ্গামাতি এলাকার জেলেরা।

শনিবার (৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের ডঃ আতাহার উদ্দিন মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জেলেদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলে মোঃ সালাম মুসুল্লি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বক্তব্যে বলেন,   আমরা অসহায় ২২ জেলে পরিবার সাগরে মাছ শিকার, প্রক্রিয়াজাতকরন ও বাজারজাতে সুবিধার জন্য চরগঙ্গামতি বনবিভাগের জমিতে অস্থায়ী ঘর তৈরী করে বসবাস করে আসছিলাম। সাগরে মাছ ধরা আমাদের পরিবার-পরিজনদের জীবন-জীবিকার একমাত্র ভরসা।

বিগত প্রায় ৪০ বছর পূর্বে তৎকালিন বন বিভাগের কর্মকর্তাগণ বন পাহাড়া দেওয়ার জন্য আমাদের বাপ দাদাদেরসহ প্রায় ৪০০ ভূমিহীন পরিবারকে সাগর পাড়ের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় স্থাপন করেন। এবছর গঙ্গামতি বিট অফিসার মোঃ মোশারেফ হোসেন  আমাদের কাছে এককালিন ১০ হাজার টাকা করে দাবি করে । ১০ হাজার টাকা আমাদের কারও দেওয়ার মত সামর্থ্য না থাকায় ৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে বিট অফিসার মোঃ মোশারেফ হোসেন তাতে রাজি হন নাই। বরং এই জায়গায় বৃক্ষ রোপন ও বনায়ন করবেন বলে আমাদেরকে এই জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলেন।

হঠাৎ করে প্রায় এক সপ্তাহ পর গত ইং-২১/০৯/২০২১ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯.০০ টার সময় বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা জনাব মোঃ আবুল কালাম ও গঙ্গামতি বিট অফিসার জনাব মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে বন বিভাগের প্রায় ৬০/৭০ জন কর্মচারী ও শ্রমিক আমাদের বসত ঘর ভাঙ্গচুর করতে থাকে। তখন আমরা সবাই সংসারের কাজে ব্যাস্ত ছিলাম। আমরা কেউ ভাত খাইতেছিলাম, কেউ শুইয়েছিলাম। কেউ শিশুকে দুধ পান করাচ্ছিল, চুলায় রান্না চলছিল। এমন সময় এমন হামলা ভাঙ্গচুর দেখে দিশেহারা হয়ে পড়ি। মোকাবেলাতো দুরের কথা আকুতি-মিনতি জানাইতে যাওয়ায় মারধরের শিকার হই প্রায় ১০-১২ জন। যেমনটি শুনেছি ঠিক যেন রহিঙ্গাদের পরিণতি।

প্রায় দুই-তিন ঘন্টা অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে দেখতে পাই যে, আমাদের দীর্ঘ বছরের বসতঘর ভেঙ্গে ট্রলিতে করে কোথায় যেন নিয়া যাওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করার ইচ্ছা থাকলেও সাহস পাই নাই। পরে শুনতে পাই যে, মহিপুর রেঞ্জ অফিসে নিয়া রাখা হয়েছে।

আমাদেরকে কোন প্রকার লিখিত পূর্ব নোটিশ না দিয়েই এমন অতর্কিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।  বর্তমানে আমাদের এই অসহায় পরিবারগুলো দিন যাপনের অনিশ্চয়তায় ভুগছে। বর্তমানে আমাদের নামে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করবার প্রক্রিয়াও চালাইতেছেন বন বিভাগের বিট অফিসার জনাব মোঃ মোশারেফ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা আরো বলেন, আমাদের মত অসহায় অস্বচ্ছল খেটে খাওয়া পরিবারদের উৎখাত করে গাছ লাগানো কি খুবই জরুরী। আমাদের জীবনের কোনই মূল্য নাই। যেখানে আমরা বসবাস করতেছি সেখানে শুধু বালু আর বালু। আমাদের আশপাশের জায়গায় বিগত বছরে বন বিভাগ বাগান করার চেষ্টা করলেও বালুর মধ্যে চারা গাছ বেড়ে উঠেনি। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের চর গঙ্গামতির খালগোড়ায় অবস্থিত প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাসকারী ২২ টি জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে জোর আবেদন করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.