সেন্টমার্টিনের প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে বার্জ

এইচ এম আল আজাদ, সেন্টমার্টিন:
সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে করে মেইন-ল্যান্ডে আনা হয় ৭৪০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য নন-বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য সেন্টমার্টিনের প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে বার্জ। ৭৪০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে করে মেইন-ল্যান্ডে আনা হয় ৭৪০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য নন-বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য, টিওবির ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক মিলে মোট ১২২টি বস্তায় ৭৪০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য নন-বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য অপসারণ করেন। এর আগেও দুইবার সেন্টমার্টিন থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করেছেন তারা

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে পর্যটকদের ফেলে আসা মোট ৭৪০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য নন-বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য অপসারণ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ভ্রমণ বিষয়ক গ্রুপ ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ (টিওবি) এর সদস্যরা। আর এই কুড়িয়ে আনা বর্জ্য দিয়েই দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হতে যাচ্ছে বার্জ।

শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই “সেন্টমার্টিন ও ছেড়াদ্বীপ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২১” চলে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। তৃতীয়বারের মতো চলা এ অভিযানে ছিলেন ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক। তারা মোট ১২২টি বস্তায় ৭৪০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য নন-বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য অপসারণ করেন। এছাড়াও পাঁচজন ভলান্টিয়ার মিলে দেড় দিনে তৈরি করেন একটি প্রতীকি বিন।এর আগেও দুইবার সেন্টমার্টিন থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য নন-বায়োডিগ্রেডেবল পণ্য অপসারণ করেছেন টিওবির সদস্যরা। কিন্তু সেবার তারা প্লাস্টিকগুলো এনে বিভিন্ন রিসাইকেল কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।

কিন্তু এবার সেন্টমার্টিনকে প্লাস্টিকের বোঝা থেকে মুক্ত করতে টিওবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন জায়েদ খান খালেদ। তিনি নিজেও ১০ বছর ধরে ট্যুরিজমের সঙ্গে যুক্ত। ঢাকার অদূরে তার একটা কায়াকিং ও ক্যাম্পিং সাইট রয়েছে। মূলত সেই সাইটের জন্যই এবার কুড়িয়ে আনা ৭৪০ কেজি প্লাস্টিক থেকে তৈরি হবে বার্জ। তিনি এসব প্লাস্টিক তার ক্যাম্পসাইটে নিয়ে একটি ভাসমান বার্জ বানাতে ইচ্ছুক।

যেটা কায়াকগুলোর ফ্লোটিং বার্জ এবং একই সাথে চাইলে তাঁবু বিছিয়ে নদীর উপর থাকার ব্যবস্থাও করা যায়। নেট এবং আলাদা করে আবার পুরোটা র‍্যাপ আপ করে এমনভাবে তিনি বানাতে চান যাতে এর ভেতর প্লাস্টিক আছে তা বেরও হবে না, বুঝাও যাবে না।টিওবির সদস্যরা তার এই উদ্যোগকে সাদরে গ্রহণ করেন। সেন্টমার্টিন থেকে কুড়িয়ে আনা ট্রাশ মেইন-ল্যান্ডে আনার আগেই জায়েদ খান খালেদ ট্রাক নিয়ে হাজির হয়ে যান টেকনাফ। তার ক্যাম্পসাইট ধলেশ্বরী ক্যামিং অ্যান্ড কায়াকিং-এ এইসব বস্তা মঙ্গলবার ভোরে পৌঁছালে সেখানে ওজন করে দেখা যায় ৭৪০ কেজি বর্জ্য তারা এনেছেন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে। এর আগে গত ৪ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ফেলে রাখা ৫৫৫ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করে আলোড়ন সৃষ্টি করে ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ (টিওবি) এর সদস্যরা। তাদের এ উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তারও আগে ২০১৮ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ১৯৪ কেজি।২০১৭ সাল থেকে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি একধরনের দায়িত্ববোধ থেকে তারা শুরু করলেন “রেসপন্সিবল ট্যুরিজম” বা দায়িত্বপূর্ণ পর্যটন। দর্শনীয় পর্যটন স্থানগুলোতে ভ্রমণের পাশাপাশি সাধ্যমতো পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোই “রেসপন্সিবল ট্যুরিজম” এর মূল উদ্দেশ্য।

ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ (টিওবি) মূলত ভ্রমণ প্রেমিকদের নিয়ে গঠিত একটি ফেসবুক গ্রুপ। এই গ্রুপটির সদস্য বর্তমান সদস্য ১০ লাখেরও বেশি। বছরজুড়েই গ্রুপটির সংগঠকরা বিভিন্ন ইভেন্ট খুলে সদস্যদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *