নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সমাপ্ত হলো দুই দিন ব্যাপী যাত্রা উৎসব

মোঃ রাশেদুল আলম রুপক, নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
‘যাত্রা’ এই শব্দটির সাথে বাঙালির দীর্ঘকাল ব্যাপ্ত শিকড় বিস্তারী সংস্কৃতির আনন্দ-বেদনার সম্পর্ক রয়েছে। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শিল্প-ভাবনার পথ-পরিক্রমায় অযুত চিত্রকল্প হয়ে আজও টিকে আছে যাত্রা। বাঙালির বিনোদনের একটি প্রধান অনুষঙ্গ যাত্রাপালা।
গ্রাম বাংলার লোক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এই বিলুপ্তপ্রায় যাত্রা শিল্পকে ধরে রাখতে এ বছর বাগাতিপাড়ায় সমাপ্ত হলো দুই দিন ব্যাপী যাত্রা উৎসব।

শুক্রবার ও শনিবার রাতে উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে জমিদার বাড়ি গিরিশ ধাম সংলগ্ন মঞ্চস্থ হয় “নাচ মহল ও বিজয় বসন্ত”যাত্রাপালা। অপ সংস্কৃতির প্রভাব, হাতের মুঠোয় বিনোদনের সহজলভ্যতা,অশ্লীল নৃত্য আর জুয়ার আবর্তে পড়ে বাঙালির লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্য এই যাত্রাপালা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামীণ সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় গালিমপুরের শতবর্ষী গিরিশ নাট্যমন্দিরকে ঘিরে গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন সময় মঞ্চস্থ হয় নাচ মহল, সিরাজউদ্দৌলা, টিপু সুলতান, সাগর ভাষা, পরাজিত সম্রাটসহ বিখ্যাত যাত্রাপালা।

স্থানীয় শিল্পীরা এতে অংশ নেন। দর্শক উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ঐহিহাসিক যাত্রাপালা ‘নাচ মহল ও বিজয় বসন্ত’ আয়োজন করে স্থানীয় বকুল স্মৃতি থিয়েটার। আয়োজকরা বলেন, যাত্রা ২টি’র রচয়িতা ভৈরব নাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পরিচালনায় ছিলেন দেবাশীষ কুন্ডু। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবাশীষ কুন্ডু, মুজিবুল হক, মসগুল হোসেন, ফারুখ হোসেন, জিন্নাত আলী, জালাল উদ্দিন, সুমি, সালমাসহ ১৫ জন।

যাত্রাপালায় অভিনয়কারী শিল্পী ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের ইলামিত্র অঞ্চলের সমন্বয়কারী মসগুল হোসেন ইতি বলেন, ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘নাচ মহল ও বিজয় বসন্ত’ এর কাহিনী দর্শকদের মন জয় করেছে।
নাচ মহল যাত্রাপালায় হিন্দু-মুসলমান দুই ধর্মের দুই রাজার মধ্যে একে অপরকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার এবং রাজ্য দখলের দ্বন্দ্বে সাম্প্রদায়িক লড়াইকে যুবরাজ হেমন্ত সেন কিভাবে নিরসন করেছেন এবং অসম্প্রদায়িক সমাজ গঠণে যুবরাজের ভূমিকা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আপর দিকে বিজয় বসন্ত যাত্রা পালায় বিজয় সেন ও বসন্ত সেন এরা দুই জনই রাজা নুকুল কুমারের পুত্র। ঘটনা চক্রে বসন্ত সেন হারিয়ে যায় এবং এক লাঠিয়ালের বাড়ীতে লালিত পালিত হয়। পরবর্তীতে রাজার আরও একটি পুত্র সন্তান হয় তার নাম বিজয় সেন, বিজয় ছিল দুষ্ট প্রকৃতির। পরবর্তীতে অরেক রাজা হায়দার খান ও হামিদ খান ‘র দ্বন্দে যুদ্ধের সৃষ্টি হয় এবং যুদ্ধের মাধ্যমেই দুই রাজপুত্র ফিরে পায় তাদের পরিচয়।

জমিদার গিরস চন্দ্র রায় এর বংশ ধর বিধান চন্দ্ররায় বলেন, এ ধরণের আয়োজন এখন গ্রাম বাংলা থেকে উঠেই গেছে প্রায়। তবে এ রকম সুস্থ্য আয়োজনে এলাকার মানুষ ফিরে পাবে গ্রাম বাংলার পুরনো ঐতিয্য।
উল্লেখ্য যে যাত্রাপালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক যুগ্ম সচিব মলয় কুমার রায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *