কুয়াকাটা উচ্ছেদ ব্যবসায়ীদের নতুন মার্কেট হলেও, জমজমাট থাকবে তো

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, কুয়াকাটা:
বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সমুদ্র কন্যা কুয়াকাটা, এখন জমজমাট কুয়াকাটা। এই সমুদ্র কন্যা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমুদ্রপাড়ের আশেপাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের থাকা সকল জমির ওপারে অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জেলেপল্লী গুলো সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তবে কি অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উঠে গেলে জমজমাট থাকবে কি কুয়াকাটার স্থান, এমন প্রশ্ন অনেকের মাঝে। কুয়াকাটার মূল বাজার থেকে প্রায় ছোট-বড় সহ দুই থেকে তিন হাজারের অধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উঠে যাবে, তবে কি শূন্য স্থানে পরিণত হবে কুয়াকাটা, টিকে কি থাকতে পারবে সেই ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং হাতের নাগালে যদি দোকানপাট না থাকে তবে কেমন লাগবে পর্যটকদের, সম্ভাবনায় নতুন মার্কেট হলেও জমজমাট হবে তো ।

এমন প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুঁজতে সরোজমিন আমাদের প্রতিনিধি, কুয়াকাটা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুন্দর ভাবে ঢেলে ঘুচিয়ে সাজাতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান (CICO) চায়না প্রজেক্ট, সেই কাজ করার ক্ষেত্রে কুয়াকাটার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এবং কুয়াকাটা উন্নয়নের ক্ষেত্রে হাসিমুখে মেনে নিচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীরা। তবে মেনে নিল বিপদ যেন তাদের পিছু ছাড়ছে না, দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার পরে একটু ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা ছিল এ প্রতিষ্ঠানগুলো এর মধ্যেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে ফেলার নির্দেশ আসে, কোথায় বা কোন জায়গায় নেবে এমন কোন নির্ধারিত কুয়াকাটায় স্থান না থাকায় টানা টানির মধ্যে পড়তে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো, এরমধ্যে শতাধিকেরও বেশি ভূমিহীনদের বসতি ঘরবাড়ি রয়েছে কি করবে কোথায় যাবে এমন চিন্তায় দিন গুনছে তারা।

সরেজমিনে কথা হয় খাবার হোটেল যমুনার পরিচালক, অলি উদ্দিনের সাথে, তিনি বলেন, আমরা চাই কুয়াকাটা উন্নয়ন হোক, কুয়াকাটা বেঁচে থাকলে আমরা বেঁচে থাকবো, তবে কুয়াকাটা বাঁচাতে জানো আমাদের না মরতে হয়, এমন অনুরোধ উচ্চতম কর্মকর্তাদের কাছে। তিনি কথার ছলে আরো বলেন, কুয়াকাটায় যদি বার্মিজ আচার মার্কেট, ও ঝিনুক মার্কেট, শুটকি মার্কেট, শপিং মল, ফ্রাই বাজার, ফটোগ্রাফি দোকান এইগুলো কুয়াকাটার যে কোন স্থানে দিলে পর্যটক যেতে ইচ্ছুক, যেমন মিস্ত্রীপাড়া ২০০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে শপিংয়ে যায় পর্যটকরা, কিন্তু খাবারের জন্য মিস্ত্রীপাড়া কোন পর্যটক যায় না, বরং খাবারের জন্য কোন পর্যটক দূরে যাবে না, যেহেতু আমরা এখান থেকে সরে যাওয়ার পরও কিছু হোটেল রেস্টুরেন্ট গুলো থাকবে, হাতের কাছে কিছু রেখে কোন পর্যটক ২০টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে খেতে যাবে না, তাছাড়াও এখন আমাদের কুয়াকাটায় অধিকাংশ হোটেলে রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যখন একজন পর্যটক দেখবে আশেপাশে কোন রেস্টুরেন্ট নেই তখন তারা আবাসিক হোটেল রেস্টুরেন্টে খেতে বাদ্য থাকবে। তাই আমার অনুরোধ দ্রুত সেক্টরে সেক্টরে কাজ করে এই স্থানেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হোক।

একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কেউ চায়ের দোকান, কেউবা পিঠা বিক্রি করি, বাদাম সহ ইত্যাদি দোকান রয়েছে যেগুলো মূল পয়েন্ট থেকে দূরে সরে গেলে পর্যটক কখনোই উক্তি করে যাবে না, কারণ চলার পথে চায়ের দোকান প্লে সেখানে চা খায়, যেহেতু কিছু দোকান এখানে থেকে যাবে, সেহেতু আমাদের চায়ের দোকানের কোন মার্কেট এর প্রয়োজন নেই, একটি পর্যটন কেন্দ্র,আর সব পর্যটক চায় হাতের কাছে সবকিছু, তবে যদি অংশে অংশে ভাগ করে কুয়াকাটাকে উন্নয়নে, পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে তাহলে আমরা বেঁচে থাকতে পারবো, এবং সুন্দরভাবে আমাদের দোকানপাট পরিচালনা করার জন্য নীতিমালা তৈরি করে, আমাদের এই স্থানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করার অনুমতি দেয় তাহলে আমরা খেয়ে পরে বাঁচতে পারবো। না হয় এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হবে, এতে কুয়াকাটার বেকারত্ব তা বেড়ে যাবে, এমন কি অসৎ পথে ও পা বাড়াতে দ্বিধাবোধ করবে না এই লোক গুলো।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক তরিকুল ইসলাম ও নুসরাত জাহান বলেন, কুয়াকাটা এখন অগোছানো কুয়াকাটাকে বিশ্বের কাছে পরিচিতি পেতে হলে নানা পরিকল্পনা করতে হবে, এবং সুন্দর সুন্দর মার্কেট শপিং মলসহ নানা ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিকল্পনা করতে হবে, এবং সমুদ্র সৈকত টাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, তারই ধারাবাহিকতায় প্রশ্নের জবাবে তরিকুল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটায় হাতের নাগালে ছোট ছোট সুন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ভাবে দোকানপাট না থাকে তাহলে পর্যটকদের চলাফেরায় কষ্ট হয়ে যাবে, যেমন অনেক রাত্রে আমরা সমুদ্র দেখতে বের হই, এবং যখন চোখের সামনে একটি সুন্দর চায়ের দোকান পাই তখন এক কাপ চা হাতে নিয়ে সমুদ্র দেখি, কিন্তু যখন দেখব আমার হোটেল থেকে ছোট দোকান গুলো, যেগুলো সব সময় প্রয়োজন সেগুলোতে যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে, তখন আমাদের কষ্ট হলেও, যেতে ইচ্ছে করবেনা। তাই পর্যটকদের স্বার্থে সুন্দর সুন্দর টি শপ বা উন্নত মানের দোকানপাট প্রয়োজন।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে মিটিং হয়েছে তিনি জানিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুর্নবাসনের একটা ব্যবস্থা করে দিয়ে উচ্ছেদ করার আশ্বাস দিয়েছে, আমরা তার অনুমতিক্রমে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি, আশাকরি অল্প কিছুদিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে, আপনাদের জানানো হবে। এবং সুন্দর একটি মার্কেট উপহার দিব। তবে কি এখনকার মতো জমজমাট থাকবে সে মার্কেট, এমন জবাবে তিনি বলেন, আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো মার্কেট জমানোর।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, এই প্রজেক্ট এর কাজ ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না করতে পারলে তাহলে, বরাদ্দকৃত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত দিতে হবে। তাই স্থায়ী সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমতিক্রমে, অতি দ্রুত আমাদের কাজের আওতায় থাকা অস্থায়ী বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হবে। আমরা তাদের মানবিকতা দেখিয়েছি কারণ, আমরা তাদের ক্ষতিপূরণ দিও আমাদের প্রকল্প কাজের উপরে তাদের ব্যবসা করতে দিয়েছি, এখন আমাদের প্রয়োজন। শেষে অনেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কে কোথায় থাকবে এবং কোথায় ব্যবসা করবে সে বিষয়ে আমি কি করে বলব।
শেষে ব্যবসায়ীদের বাণী, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আধুনিক কুয়াকাটা গর্তে জানো হারিয়ে যায় না হাজারো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পথে যেন বসতে হয় না মালিক ও কর্মচারীদের, সকলের স্বপ্ন জমজমা থেকে যাবে কুয়াকাটা, কখনো কোথাও শূন্যস্থানে পরিণত না হয় সমুদ্র কন্যা কুয়াকাটা এদিকে নজর রাখার অনুরোধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *