লালমনিরহাটে নকল বীজের ছড়াছড়ি নিরব কৃষি অফিস

কাজী শাহ্ আলম, হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট:
একদিকে তিস্তা নদীর করাল গ্রাস অপর দিকে ভারত সিমান্ত, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল ভুট্টা। এ ফসলকে ঘিরে কৃষকের মনে কত আশা কিন্তু সেই আশা নিরাশ করতে মাঠে নেমেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অসাধু বীজ কোম্পানীর খপ্পরে পরে সর্বস্বান্ত অনেক কৃষক। আইনী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি অফিসের বিরুদ্ধে।  

জানাগেছে, এ উপজেলায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী চর এলাকার জমিতে কৃষকরা আগাম ভুট্টা চাষ করেন কিন্তু হঠাৎ বন্যায় সেই জমির ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে ডুবে পঁচে নষ্ট হয়েছে। তাই বন্যা পরবর্তীতে নতুন করে  কৃষকরা ভুট্টার বীজ রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে। ভুট্টা বীজের প্রচুর চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকার অনুমোদনহীন একই নামে বিভিন্ন কোম্পানীর নিম্ন মানের অবৈধ্য বীজ এবং প্রতিষ্ঠিত ও দামী বীজ কোম্পানীর নাম ব্যবহার করে নিম্ন মানের ভুট্টা বীজ বিক্রি করছে। প্যাকেট দেখতে সুন্দর ও দামে সস্তা হওয়ায় এ সব নিম্ন মানের বীজ ক্রয় করে কৃষকরা প্রতারতি হচ্ছে অপর দিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা নিচ্ছে, মাঠে দেখা মিলছে না কৃষি বিভাগের। নামসর্বস্ব অনুমোদনহীন বীজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি অফিসের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে বৃহস্পতি ও শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরে দেখাগেছে, উপজেলার পারুলিয়া বাজারে একরামুল হকের সারের দোকানে বিজয় ৭১ একই নামে (রাফিত সীট ও রত্না বীজ ভান্ডার) ২ কোম্পানীর বীজ বিক্রি করছে। বিজয় ৭১ রাফিদ সীডস্ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ন্যাচারাল সীডস্ কোম্পানীর যার ঠিকানা কার্পাসডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা আমদানীকারক বলে দাবী করেন রাফিদ সীডস্ কোম্পানী। বিজয় ৭১ জনপ্রিয় হওয়ায় এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বিজয় ৭১ নামে অন্য কোম্পানীর নামে বীজ প্যাকেটজাত করে বাজারে কম দামে বিক্রি করছে। অনেক কৃষক বীজ সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় এবং দামে সস্তা হওয়ায় অনুমোদনহীন ভুট্টা বীজ ক্রয় করছেন।
ন্যাচারাল সীর্ডস কোম্পানী’র মার্কেটিং অফিসার নুরুজ্জামান হোসেন বলেন, রত্না বীজ ভান্ডার ঠিকানা,  উল্লাহপাড়া, সিরাজগঞ্জ। নামে একটি বীজ কোম্পানী জয়কৃষাণ সীডস্ বিজয় ৭১ ভুট্টা নামে অনুমোদনহীন বীজ বাজারে বিক্রি করছে। আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করেছি।

একই নামে ২ কোম্পানীর বীজ বিক্রয়ের বিষয়ে কৃষি অফিসার ওমর ফারুক বলেন, রত্না বীজ ভান্ডার নামে কোম্পানীর সরকার অনুমেদিত কোন কগজপত্র দেখাতে পারেনি তাই ব্যবসায়ীকে বীজ গুলো কোম্পানীতে ফিরত দিতে বলেছি। সরকার অনুমেদিত কাগজপত্র না থাকায় কেন আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি কৃষি অফিসার ওমর ফারুক।  
লালমনিরহাট কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, ভেজাল ও অনুমোদনহীন বীজ বিক্রি আইনগত অপরাধ। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *