শেরপুরে আওয়ামীলীগ মনোনীত পার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ

শাহাদাত হোসেন সোহাগ, শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের নকলায় বানেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমাবার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ৫নং বানেশ্বর্দী ইউপি প্রাঙ্গনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বানেশ্বর্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, কেন্দ্র থেকে গতকাল রোববার বিকেলে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আঞ্জুমান আরা বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি এই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আনিছুর রহমানের স্ত্রী। দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবদমান একটি অংশ এবং ইউনিয়নবাসী। তারা এই ইউনিয়নের আঞ্জুমান আরা বেগমের মনোনয়ন পরিবর্তন করে বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাজহারুল আনোয়ার মহব্বতকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে তাঁর সমর্থকেরা রোববার রাতে ইউপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বানেশ্বর্দী ইউপির ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি চাঁন মিয়া বলেন, আমার বয়স ৬৫ বছর। আমি বর্তমান চেয়ারম্যান মহব্বতের কাজ গুলা দেইখা আমার কাছে এমন সুন্দর মনে হইছে অতিতে আমি এমন চেয়ারম্যান পাই নাই ও দেখিও নাই। আমরা এই মহিলাকে চাইনা, পুনরায় মহব্বতকেই চাই।

বানেশ্বর্দী ইউপির ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কান্ডারি বর্তমান চেয়ারম্যান মহব্বতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, এটা আমরা মানতে পারি না। তিনি এখানে দলের কান্ডারি। তাই মনোনয়ন পরিবর্তন না করলে এই ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আঞ্জুমান আরা অবশ্যই হারবেন।’

উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে চরকৈয়া এলাকার গিয়াস উদ্দিন, পিন্টু, মোতালেব ও বানেশ্বর্দী এলাকার আবু, মনির, খোকন, স্বপন ও আওয়ালসহ অনেকেই বলেন, আমরা এই মহিলাকে ঠিকমতন চিনিই না। শুনেছি আনিছ চেয়ারম্যানের বউ। তাকে কখনো এলাকায় দেখিনি। এলাকার ভালমন্দ খোঁজ খবর নিতেও দেখিনি কোনদিন। মহব্বত চেয়ারম্যানকে আমরা সবসময় কাছে পাই। মহব্বত চেয়ারম্যানের কোন খারাপ দিক আজ পর্যন্ত আমরা দেখিনি। এই ইউনিয়নে যদি জেলার পরিষদের সদস্য ছামিউল হক মুক্তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিতো তাহলেও আমরা খুসি মনে মেনে নিতাম। কারন তাকে আমরা চিনি। তিনি আামাদের ডাকে সাড়া দেয়। খুবই ভাল মানুষ। কিন্তু একজন মহিলাকে মনোনয়ন দিলেন তাকে আমরা চিনি না। আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুন:বিবেচনা করার দাবী জানাচ্ছি। নৌকার মনোনয়ন বাতিল করে বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাজহারুল আনোয়ার মহব্বতকে যেন দেওয়া হয়। আমাদের ইউনিয়ন তাই আমরা আমাদের পছন্দের লোককেই চেয়ারম্যান হিসেবে চাই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে দুইবার চেয়ারম্যান হয়েছি। সফলও হয়েছি। মানব সেবায় পেয়েছি বিভিন্ন পুরুস্কার। ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তা নাই বললেই চলে। সরকারি অনুদানের বাইরে নিজের অর্থায়নে মানুষকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছি। যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তার গ্রামের বাড়ির রাস্তা যখন বর্ষাকালে চলাচলে অনুপোযোগি হয়ে পড়েছিল তখন আমি নিজে ট্রলি দিয়ে মাটি ও বালি দিয়ে ভরাট করে উপযোগি করে দিয়েছি। তখন তিনি কোথায় ছিলেন। জনগনের পাশেতো ছিলেন না। আমাকে ছাড়া আওয়ামী লীগের অন্য কাউকে দিলে আমার কোন আপত্তি ছিল না। জনগন আমাকে ভালবাসে বিধায় আমাকেই তারা পুনরায় চাচ্ছে। আমার দলের কাছে অনুরোধ থাকবে এই ইউনিয়নের জনগনের কথা চিন্তা করে পুনবিবেচনা পূর্বক পুর্বের প্রার্থী বাতিল করে দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য।

আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, আমার স্বামী মরহুম আনিছুর রহমান এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি উপজেলার আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য। আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তিনি বলেন, ‘দলীয় নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে একটি পক্ষ লোকজন দিয়ে বিক্ষোভ করাচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন অনেকেই। পেয়েছেন একজন। মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমেই অনেক যাচাই বাছাই করেই মনোনয়ন দিয়েছেন। কারো ব্যক্তিগত মতবিরোধ থাকতেই পারে। এ জন্য নৌকার বিরোদ্ধে যাওয়াটা ঠিক হবে না। পুরোনো মতবিরোধ ভুলে একই ছাতার নিচে এসে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। নৌকাকে বিজয়ী করে সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি’র হাত তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। বানশ্বের্দী ইউনিয়নবাসীকে নৌকার মার্কার পক্ষে কাজ করার আহব্বানও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *