ফটোগ্রাফিতে ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা পেয়েছেন মনোয়ারুল ইসলাম

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুরঃ
ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য দীর্ঘদিন যাবত জেলার গুণীজনদেরকে সম্মাননা দিয়ে আসছে। এবারই প্রথম ফটোগ্রাফিকে অর্ন্তভুক্ত করে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ফটোগ্রাফিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ফরিদপুর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (এফ.পি.এস) এর উপদেষ্টা মো: মনোয়ারুল ইসলামকে সম্মাননা প্রদান করা হয়, যিনি তাঁর ছবির মাধ্যমে প্রকৃতি ও মানুষকে তুলে ধরেন।

সম্প্রতি জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাকে উত্তোরীয়,মেডেল,দশ হাজার টাকার চেক ও সম্মাননা পত্র তুলে দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার।

মো: মনোয়ারুল ইসলাম ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষীপুর, মোতাহার হোসেন সড়ক এর বাসিন্দা। তার পিতা মরহুম আব্দুল খালেক জোয়ারদার, মাতা- মরহুম খোদেজা খাতুন। পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেই তার বেড়ে ওঠা। তার বড় ভাই ওস্তাদ খায়রুল ইসলাম নীলু একজন প্রবীণ সংগীতজ্ঞ,এই শহরে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে তার। বেশ কয়েক বছর আগে তিনিও সংগীতে বিশেষ অবদান রাখায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর গুণীজন সম্মাননা পেয়েছেন।

পিতার সরকারি বদলী চাকরির কারণে তাঁর শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্য কেটেছে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায়। সেই সুবাদে পরিচয় ঘটে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি ও মানুষের সাথে। কৈশোরে ঘুড়ি ওড়ানো, লাটিম, ডাংগুলি খেলার পাশাপাশি যোগ হয় ছবি আঁকা ও বই পড়ার নেশা। তারুন্যে কলেজের আঙিনায় পা দিলে হাতে আসে মেজ ভাইয়ের উপহার একটি ইয়াশিকা ক্যামেরা। শুরুহয় তাঁর আলোকচিত্রের ভুবনে যাত্রা। সেই সময়ে ফটোগ্রাফি ছিল ব্যয়বহুল। ৩৬ স্ন্যপের রিল কেনা, ফিল্প ওয়াশ ও প্রিন্ট করাতে খরচ হতো প্রচুর। তাই তিনি টিউশনি করে যে টাকা পেতেন তা চলে যেত ফটোগ্রাফির পেছনে।

তাঁর সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি মহাবিদ্যালয়ের বাৎসরিক সাহিত্য প্রতিযোগিতায় তিনটি বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে চ্যাম্পিয়ন হন। আশির দশকে তিনি ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর সম্পাদনায় সংস্থার একুশে ফেব্রয়ারীর স্মরনীকা “প্রত্যয়” নিয়মিত প্রকাশিত হত । এছাড়া তিনি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনাসহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক নানান কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িত করেন। গন-সঙ্গীত সংগঠন উদীচী ও শিশু সংগঠন খেলাঘরের সাংগঠনিক কাজে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখেন। আশির দশকে ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা “আল মোয়াজ্জিন” এর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এসব কাজের সাথে যুক্ত থেকেও তাঁর ফটোগ্রাফি থেমে থাকেনি।

বর্তমানে ফরিদপুর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (এফ.পি.এস) এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়মিত আউটিং, ফটো আড্ডা ও ওয়ার্কশপের আয়োজনের সাথে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

এই গুণীজনের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। সেকারনে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন। তখন মাঝে মধ্যে ছুটির দিনগুলিতে ক্যামেরা হাতে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতেন তিনি।

একসময়ে কর্পোরেট অফিসের কাজের চাপে হাঁপিয়ে উঠেন। ২০১২ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে পৈত্রিক ভিটা ফরিদপুরে ফিরে আসেন। তাঁর অবসরের সময় কাটে বাগান করে, গান শুনে এবং সকাল-বিকাল ফুল পাখি, অরণ্য নদীর ছবি তুলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *