গভীর সমুদ্র ভাঙ্গেনি বরং বন বিভাগ ভেঙে দিয়েছে জেলেদের ঘর বাড়ি

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, কুয়াকাটা প্রতিনিধি:
গভীর সমুদ্রে ভেঙে নেয় নি ঘরবাড়ি বরং বন বিভাগ আমাদের ৪০ বছরের ভিটা মাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিনা নোটিশে, কুয়াকাটার  চর গঙ্গামতি এলাকায় অসহায় ২২ জেলে পরিবার কে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ ও বনবিভাগের অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী জেলেরা। ২১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার)  বেলা ১১ টায় সমুদ্র সৈকতের চর গঙ্গামতি এলাকায় শতাধিক নারি পুরুষ ও শিশুরা  এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। 

 মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অসহায় ভুক্তভোগী জেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ সালাম মুসুল্লি, ইলিয়াস ফকির প্রমূখ 

বক্তারা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা সাগর পাড়ে অসহায় ২২ জেলে পরিবার প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করছি। এখানে থেকে সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। গত মাসের ২১ তারিখে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই বনকর্মকর্তারা আমাদের বসত ঘরে হামলা ও ভাংচুর করে। এসময় বন কর্মকর্তারা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। জেলেরা আরও দাবি করেন, উচ্ছেদকালে একটি  মসজিদ ভেঙে ফেলে। এবং সূপেয় পানির জন্য স্থাপন করা একটি টিউবওয়েল খুলে নিয়ে যায়।  এমন অতর্কিত হামলার প্রতিবাদ জানালে তাদের মামলা হামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। মানববন্ধনে এমন অতর্কিত হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদ জানান এবং  সরকারের কাছে পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত উচ্ছেদ না করার অনুরোধ করেন ভুক্তভোগী জেলে পরিবার গুলো। 

এ ঘটনায়  ভুক্তভোগী জেলেরা পটুয়াখালী  জেলা প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন জানান।

 এ বিষয়ে গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন জানান, এরা দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বনের মধ্যে থেকে অস্থায়ী ঘরবাড়ি তুলে বসবাস করছিল। উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়। এসময় পটুয়াখালী বনবিভাগের এসিএফ উপস্থিত ছিলেন। কোন পূর্ব নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ আইন বহির্ভূত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিট কর্মকর্তা বলেন উচ্ছেদ করতে কোন নোটিশের দরকার হয় না। 

 

এব্যাপারে মহিপুর বনবিভাগের রেঞ্জ বনকর্মকর্তা আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, ২২ পরিবারকে বহুবার মৌখিক ভাবে ঘর সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে, তা ছাড়া  উচ্ছেদের জন্য  উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ আছে। উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই এদের উচ্ছেদ করা হয়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *