যশোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠর অবস্থানে

শাহারুল ইসলাম ফারদিন:
সম্প্রতি কুমিল্লার অনাকাঙ্খিত ঘটনা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপি কঠোর অ্যাকশানে নেমেছে পুলিশ। যশোরাঞ্চলের বিভিন্ন স্পট কঠোর নজরদারিতে রেখেছে যশোর জেলা পুলিশ। বড় বড় স্থাপনা ও ব্যস্ত মার্কেটসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। কোনো প্রকার উস্কানি, গুজব ও শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও পুলিশের পক্ষে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স থেকেও এ ব্যাপারে কঠোরতা প্রদর্শনের নির্দেশনা এসেছে। কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষে।

যশোর জেলা পুলিশ ও থানা সূত্র থেকে তথ্য মিলেছে, সম্প্রতি  সরকার ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার অপচেষ্টা হিসেবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় কুমিল্লায়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মত কর্মকান্ড চালিয়ে পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা চলে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরো বিনষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। ওই সব ঘটনায় জড়িত ও তাদের মদদ দাতা ও উস্কানিদাতাদের খোঁজে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ওই চক্রের ৪শ’৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ৭১ টি মামলা করা হয়েছে।

এদিকে ওই অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সম্পৃক্তদের কোনো রেশ বা প্রভাব যশোরাঞ্চলে না পড়ে সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা পুলিশ। সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ সুপারের পক্ষে জেলার সকল থানা ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে এলার্ট করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যশোরাঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ করছে, মানববন্ধন  করছে। একইসাথে ওই সম্প্রীতি বিনষ্টকারী চক্র এ অঞ্চলে কাজ করছে কিনা বা মাঠে রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শহরের দড়াটানা, নিউমার্কেট, মণিহার এলাকা, চাঁচড়া চেকপোস্ট, ধর্মতলা, আরবপুর মোড়, পালবাড়ী মোড়, মুজিব সড়ক, গাড়ীখানা রোড, এম.কে রোড, আর এন রোড, রেলরোড, জেনারেল হাসপাতাল রোড, চিত্রা মোড়, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, জর্জ কোর্ট মোড়, জেলখানা  মোড়, কাঠেরপুল-বড়বাজার এলাকাসহ শহরের অধিকাংশ এলাকা ও শহরের প্রবেশদ্বার গুলোতে নজরদারি রাখতে দেখা গেছে পুলিশকে। এছাড়া বড় বড় স্থাপনা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তুলে ধরে যশোর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, দেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অনেক ক্ষেত্রে চক্রান্তকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট কিংবা বিভিন্ন তথ্য বিকৃত বা অপব্যাখ্যা করে তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে সংঘাতমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এর পাঠানো ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটসমূহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের মনিটর করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *