ভোলার ৯০ স্থানে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রচারণা

সাব্বির আলম বাবু, ভোলাঃ
সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অবহিত করার মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শিরোনামে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চলছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তর একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ বাস্তবায়ন করছে।

এলইডি ভ্রাম্যমান ভ্যানের মাধ্যমে প্রামাণ্যচিত্র ও নাটিকা আকারে গ্রামে গঞ্জে এ প্রকল্পের আওতায় চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ভোলা জেলার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এমন একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠান প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্য অনুষ্ঠানে, পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগ, ভাঙ্গা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্র বন্দর, বঙ্গবন্ধু শিল্প পার্ক, ইকোনোমিক জোন ইত্যাদির উপর নির্মিত প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এছাড়াও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, ঢাকার মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, ঢাকা-কক্সবাজার রেল সংযোগ, হাতির ঝিল প্রকল্প ইত্যাদির উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সরকারের এসব মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন সূচিত হবে প্রামাণ্য চিত্রে তা তুলে ধরা হয়। এছাড়া সরকারের ১০ উদ্যোগের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ও নাটিকাও অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে জনগণকে সচেতন করতে তথ্যচিত্র দেখানো হয়। বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত তথ্যচিত্র দেখানো হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন।

জেলা তথ্য অফিসার মো: নুরুল আমিন, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: দেলোয়ার হোসনে রারি আনসার ও ভিডিপির উপজেলা সহকারি কমান্ডেন্ট মোঃ মোকাম্মলে হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতত্বি করেন ভোলা জেলা প্রশাসক মো: তৌফকি-ই-লাহী চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয়েছিল বলেই বাঙালি একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছে, একটা পতাকা পেয়েছে। তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাঙালির চির আরাধ্য স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ হচ্ছে। বিশেষত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের জীবনধারা বদলে যাবে। তিনি বলেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় আজ পৃথিবী হাতের মুঠোয় এসেছে, ছেলেমেয়েরা ঘরে বসেই লেখাপড়া করছে। করোনাকালে সরকারের শাসনযন্ত্র ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণেই সচল ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতথিরি বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক জনাব মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান বলেন, এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ক) গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালীকরনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে  প্রধানমন্ত্রীর মেঘা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ ও এর ফলাফল জনগণকে অবহিত করে সরকারকে সহযোগিতা করা, খ) প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ যেমন- একটি বাড়ী একটি খামার, আশ্রয়ণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন মান ও আয় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ সরকারকে যে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের প্রক্রিয়া তাতে দেশের সকল মানুষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করা, গ) দেশব্যাপী গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে উদ্ধুদ্ধকরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), ভিশন-২০২১ ও ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে সহযোগিতা করা। ঘ) মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশেষ প্রচারণাসহ বাল্যবিবাহ ও সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে বিশেষ প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ঙ) জলবায়ু পরিবর্তন জনিত উদ্ভুত সমস্যা মোকাবেলা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর লক্ষ্যে জনগনকে তথ্য প্রদান ও সচেতন করা। মৌলিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু অধিকার, লিঙ্গ সমতা, নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নির্যাতন ও যৌতুক বিরোধী আইন, নারীর প্রতি সহিংসতা, পরিবার পরিকল্পনা, সেনিটেশন, এইচআইভি/এইডস, এসটিডিসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে গ্রামীন জনগোষ্ঠিকে সচেতন করা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে জঙ্গী তৎপরতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ, নারী ও শিশু পাচার ইত্যাদি প্রতিরোধে প্রচলিত আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহায়তা করা।

তিনি বলেন এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে আনসার ও ভিডিপি কো-অপারেটিভ সোসাইটি (আভিকো) লিঃ এর মাধ্যমে দেশব্যাপী ১৯ হাজার স্পটে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে ১৯ হাজার ৮৪৪ স্থানে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। গ্রামীণ নারী সমাজকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৩৯০টি মহিলা সমাবেশ করা হয়। ভাসমান জনগোষ্ঠীকে সচেতন করতে ৮ হাজার ৫২টি পথ সঙ্গীত অনুষ্ঠান করা হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলমান প্রান্তিকে ভোলা জেলায় আনসার ও ভিডিপি কো-অপারেটিভ সোসাইটি (আভিকো) লিঃ এর মাধ্যমে ৯০টি এ প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ২ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া ভোলা জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে ৪৬টি চলচ্চিত্র, ৫টি মহিলা সমাবেশ ও ১৮টি সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *