ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নিজ বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকি থেকে নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

মাহবুব হোসেন পিয়াল,ফরিদপুর:
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে তিন সন্তানের এক জননীকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর ওই গৃহবধূর লাশ টয়লেটের ট্যাংকির মধ্যে ফেলে রাখে। ঘটনাটি ঘটেছে বোয়ালমারী পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের ফায়ার ব্রিগেডের পশ্চিমে আধারকোঠা গ্রামে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
নিহত ওই নারীর নাম নিলুফা ইয়াসমিন (৪০)। তিনি বোয়ালমারী পৌরসভার আধারকোঠা মহল্লার
বাসিন্দা আবুল খায়েরের স্ত্রী। আবুল খায়ের সেনা সদস্য ছিলেন, তিনি দেড় বছর আগে মারা যান।
নিলুফা উপজেলার চতুল ইউনিয়নের ধুলপুকুরিয়া গ্রামের ওহাব মোল্লা-জাহেদা বেগম দম্পতির মেয়ে।

এলাকবাবাসীরা জানায়, নিলুফা বেগম এক মেয়ে ও দুই ছেলের মা। তার মেয়ে মেয়ে প্রিয়াঙ্কার (২২) বিয়ে হয়েছে পার্শ্ববর্তী আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়ায়। ইমরান (২০) ও অন্তর (১৮) নামে তার দুই ছেলে জাহাজে কাজ করেন। আধারকোঠার ওই বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন।

একটি সূত্র জানায় সকালে স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফিরে আসেন। দুপুরের পর নিহতের মেয়ে ও মা ফোনে নিলুফাকে না পাওয়ায় নিলুফার মা সন্ধ্যার পর আধারকোঠায় অবস্থিত মেয়ের বাড়িতে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিলুফার গলাকাটা লাশ বাড়ির পেছনের দিকের টয়লেটের ট্যাংকির মধ্যে ডুবে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

সহকারি পুলিশ সুপার মধুখালী সার্কেল সুমন কর জানান, মৃতদেহটি উদ্ধার করে শুক্রবার সকালে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত মামলা না হলেও পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করে দিয়েছ্। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্রুতই এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *