ঠাকুরগাঁওয়ে অনিয়ম দূর্নীতি ঢাকতে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার মনগড়া প্রতিবাদ

ঠাকূরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা খগেন্দ্র নাথ সরকারের বিরুদ্ধে পদে পদে অনিয়ম দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগকারীর বকেয়া হাল সনের কর গ্রহণ করেছে ওই কর্মকর্তা। এতে অভিযোগকারী তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানায়।

 

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান। গত বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে তিনি এই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

প্রতিবাদে ওই ভুমি সহকারী কর্মকর্তা বলেছেন ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ পরিবশেন করা হয়েছে। এলাকার কিছু ভুমি ব্যবসায়ী, ভুমিদস্যু এবং একটি কুচক্র অন্যায় সুবিধা পেতে বানোয়াট ও ভিক্তিহীন অভিযোগ আনয়ন করে। আর সেই অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ কর্মীকে ভূল বুঝিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেন। এখানেও তিনি ভূল তথ্য উপস্থাপন করেছেন, সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে গত ৫ অক্টোবর। অভিযোগকারি জুয়েল বলেন এরা কেউ ভূমি দস্যূ নয়, সকলেই কৃষক, তাই তিনি কৃষকদের অপমানমূলক কথা বলার ইখতিয়ার রাখেন না বলেন জানান। 

অভিযোগকারি শহরের বসিরপাড়া মহল্লার দিপু, শান্তিনগরের জুয়েল ইসলামসহ অনেকে বলেন ওই কর্মচারী জনগণের টাকায় চাকরি করে, জনগণকে সেবা না দিয়ে উল্টো দূরববহার করে। এর সাথে একটি সিন্ডিকেট জড়িত আছেন বলে মনে করেন তারা। খারিজ করিয়ে দেয়ার নাম করিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে প্রমান দিতে একাধিক ব্যক্তি প্রস্তুত। তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ যদি এর সত্যতা যাচাই করতে চায় তাহালে জগন্নাথপুর রসুল বিহারী পাড়া, কলোনি এলাকার খাজনা, খারিজ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে তথ্য অনুসন্ধান করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে। ভূক্তভোগীরা আরও জানায় কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমরা বলতে তা প্রস্তুত। 

প্রতিবাদে অভিযোগকারিগণ বরাবরই অন্যায় সুবিধা পেতে চাপ প্রয়োগ করেন। যা নিয়ম বর্হিভুত। আর সেই কাজের বিষয়ে অপরাগতা প্রকাশ করা হলে সংবাদকর্মীর আশ্রয় নিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে অভিযোগকারিরা বলেন ওই কর্মকর্তাসহ সিন্ডিকেটের সাথে যারা জড়িত নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এসব কিছু করছেন। অপরদিকে ৬ সেপ্টেম্বর মোঃ সাকির হোসেন তার ভুল বুঝতে পেরে স্বেচ্ছায় তার দাখিলকৃত অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নেন। তাই যে সংবাদটি প্রকাশ হয়েছে দুঃখজনক ও মানহানিকর। সেই সাথে সংবাদটি সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা খগেন্দ্র নাথ সরকার। এর প্রেক্ষিতে মো: সাকিব হোসেন বলেন আমার জমির কর বা খাজনা পরিশোধ নেয়ায় আমি তা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তবে তিনি আরও বলেন আমার এই জমি খারিজ করতে খগেন্দ্র নাথ ৯ হাজার টাকা নিয়েছে। তিনি আরও বলেন ৯-১০ হাজার টাকা কমে কোন খারিজই করে দিতে চায় না সে। উল্টো ৬ মাস থেকে এক বছর ঘরতে হয়। যার মূল্য দাঁড়ায় আরও ১০ হাজার টাকা। 

  

অভিযোগকারিরা বলেন দক্ষিণ সালন্দর আর কে স্টেট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার মিজানুর রহমানের সাথে খগেন্দ্র নাথ সরকার খারিজ দেয়ার নাম করে ৩০ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি হয়। ইতো মধ্যে ১০ হাজার টাকা গ্রহণও করেছেন, বাকি ২০ হাজার টাকা কাজ শেষ হলে নিবেন। যার সত্যতা স্বরুপ কল রেকডও আছে বলে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসের এক কর্মচারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ভূমি কর্মকর্তারা ৯৯% মানুষের মধ্যেই পড়ে না, যার ভিডিও প্রমান রয়েছে।  

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান বলেন অভিযোগকারী সাকিব হোসেনের কাজ হওয়ায় সালন্দর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা খগেন্দ্র নাথ সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *