ভুমিহীনের পত্তনকৃত খাশ জমি দখল করছে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদ্বয়

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ি ও বিরামপুর, দিনাজপুর: 
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর মৌজার (শিবপুর গ্রামের) খাসজমি ২৯৭ নং দাগের ১২ শতক জমির মধ্যে ৬শতক জমি ২০২০ইং সালে উক্ত শিবপুর গ্রামের ভুমিহীন মোঃ আনোয়ার হোসেন পিতা মোঃ আঃ কুদ্দুস আলী ও স্ত্রী মোছাঃ হাছনা বেগম কে বাংলাদেশ সরকার  পত্তন মুলে রেজিস্ট্রি দেয়, যার দলিল নং ৪৪৫৬/২০২০ইং। সরকার কতৃক রেজিস্ট্রি পাবার পর মোঃ আনোয়ার হোসেন উক্ত পত্তনকৃত জমি খারিজ খাজনা করেন। এবং উক্ত জমির উপর নিজের বসবাসের জন্য  বাড়ি নির্মান করার জন্য প্রস্তুতি  নিচ্ছিলেন। এমন সময়ে ৬নং দৌলতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকা উক্ত শিবপুর গ্রামের মোঃ এন্তাজুল হক  পিতা মৃত অহিরউদ্দিন এবং মোঃ আতিয়ার রহমান  পিতা মোঃ আবু বক্কর  দ্বয় উক্ত জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘর নির্মান সহ ঘিরে নেয় ও গর্ত করে মাটি উত্তলন করে নিয়ে যায়। পত্তন প্রাপ্ত খাশজমির মালিক মোঃ আনোয়ার হোসেন জোর দখলকারি এন্তাজুল হক ও আতিয়ার রহমান কে বাধা দিতে গেলে তারা আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী হাসনা বেগমকে হুমকি প্রদান করে বলেন, এখানে বাধা দিতে আসলে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবো। অসহায় আনোয়ার হোসেন নিরুপায় হয়ে স্ব-ইউনিয়ন (৬নং দৌলতপুর) এর চেয়ারম্যান মোঃ আঃ আজিজ মন্ডলের নিকট পত্তনকৃত খাশজমির উপর অবৈধ দখলকারিদের নিকট হতে মুক্ত করার জন্য  পত্তনকৃত খাশজমির রেজিষ্ট্রি দলিল ও খারিজ / খাজনার কাগজপত্র সহ অভিযোগ করেন। কিন্তুু অভিযোগ পাবার পর চেয়ারম্যান আঃ আজিজ মন্ডল টালবাহানা শুরু করেন। নিরুপায় হয়ে আনোয়ার হোসেন দিনাজপুর ৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী এ্যাডঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার সাহেবের নিকট গিয়ে খাশজমি পত্তনের দলিল ও খারিজ /খাজনার কাগজপত্র সহ পত্তনকৃত খাশজমির জোরদখলের বিবরন মৌখিকভাবে উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্য বিসয়টি শোনার পর ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান মিল্টন কে বিসয়টি সমাধান করার জন্য দায়িত্ব দেন। এর কয়েকদিন পর উপজেলা চেয়ারম্যান দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আঃ আজিজ মন্ডলকে উক্ত বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আনোয়ার হোসেন কে দলিল মাফিক ৬ শতক জমি বুঝিয়ে দিয়ে বিসয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আঃ আজিজ মন্ডল উক্ত খাশজমিতে গিয়ে প্রথমে সংসদ সদস্যের নিকট গিয়ে বিসয়টি জানানোর জন্য আনোয়ার হোসেন কে অনেক বকাবকি করেন,এবং  বলেন তুই এমপির নিকট গেছিস এমপি তোর জমি উদ্ধার করে দেক দেখি।  তারপর জোর দখলকারী এন্তাজুল হক ও আতিয়ার রহমানকে ৩ শতক  জমি ছেড়ে দিয়ে পত্তনকৃত খাশজমির মালিক  আনোয়ার হোসেন কে ৩ শতক জমি নিয়েই সন্তস্ট থাকার জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেন, এই ৩ শতকের উপর তুই থাকলে থাকবি না থাকলে এখান থেকে সরে যাবি। এখানে এলাকার সাধারণ জনগনের প্রশ্ন একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন অন্যায় ও প্রহসন মুলক শালিসের রায় প্রদান হলে নির্যাতিত  অসহায় জনগন সঠিক বিচার পাবে কার কাছে। 

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেশের খাশজমি প্রতিটি ভুমিহীন পরিবারের মাঝে পত্তন প্রদান এবং গৃহহীনদেরকে মুজিব বর্ষের উপহার স্বরুপ পাকা বাড়ি নির্মান করে দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে একজন ভুমিহীন পরিবারের সঙ্গে  ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু মানুষের দুর্বিত্তায়ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশের জনউন্নয়ন মুলক অসহায় ভুমিহীন পরিবারের মাঝে খাশজমি প্রদান প্রকল্পের এই অর্জন কে পদদলিত করাকে মেনে নেয়া যায়না। 

উক্ত পত্তনকৃত খাশজমির মালিক মোঃ আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী হাসনা বেগম ফুলবাড়ি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট অনেক ধর্না দিয়েও এর কোন সুরাহা পাননি। তাই এই জোর দখলকারীদের নিকট হতে পত্তনকৃত খাশজমি উদ্ধার পুর্বক ফিরে পাবার জন্য সরকারের  ভুমিসংশ্লিষ্ট  উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *