ঝালকাঠিতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যাস্ত সময় পার করছে কারিগররা

আবু সায়েম আকন, ঝালকাঠি:
ঝালকাঠিতে শারদীয় দুর্গা পূজা  উৎযাপনের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। এরিমধ্যে জেলার ১৬৯ টি প্রতিমা রং তুলির কাজ ছাড়া তৈরি প্রায় শেষের পথে। করোনা মহামারিরতে সরকার নির্ধারিত সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য পূঁজা কমিটিগুলোও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবী দুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক। প্রতিবছর অসুরের বিনাশ করতে দেবী এ ধরাধামে আবির্ভূত হন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার ও গ্লানি দূর করার জন্যই এ পূজার আয়োজন। 

এই মুহূর্তে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবীকে বরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘরে ঘরে চলে আসছে পূজা আর উৎসবের আমেজ। 

এ বছর পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। ১৫ অক্টোবর দশমীপূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন দুর্গা মন্দির ঘুরে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতির প্রথম পর্বের কাজ প্রায় শেষের দিকে। জেলা পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার ১৬৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এবছর ঝালকাঠি সদরে ৭৩ টি ও কাঠালিয়ায় ৫৪ টি, রাজাপুর উপজেলায় ২১টি ও নলছিটিতে ২১টি, জেলায় মোট ১৬৯ টি পূঁজা মন্ডপ স্থাপিত হচ্ছে। 

এই বিষয়ে কথা হয় শহরের পাবলিক হরিসভার প্রতিমা তৈরি শিল্পীদের সাথে। তারা বলেন প্রতিবছর তাদের  চারজনের একটি টিম ২৫ থেকে ৩০ সেট প্রতিমা তৈরির কাজ নেন। এবছও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ করেন বলেও জানান।

এবারের পঞ্জিকা মতে, দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে চড়ে, আর প্রস্থান ঘটবে দোলায় চড়ে। এবছর দেবীর নিকট বৈশ্বিক করোনা মহামারি থেকে বিশ্ববাসীর মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।

বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের সাথে আলাপ করে জানাযায়, প্রতিমা বানাতে ৩ ধরনের মাটির প্রয়োজন হয়। একটি প্রতিমা বানাতে ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগে। তারা আরো জানায়, করোনা মহামারির কারনে দেশে পূজাপার্বণ অনেকটাই কমে গেছে তাই তাদের হাতে কাজ কম এবছর। যার কারনে তাদের আয় রোজগারো কমে গেছে।

রাজাপুর পূজা উৎযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক গোপাল কর্মকার বলেন, আমরা করোনা মহামারির জন্য সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে পূজা উৎযাপন করার নির্দেশনা দিয়েছি রাজাপুরের ২১ টি পূজা মন্ডপের কমিটিকে। এবং এই বিষয় সহ সকল বিষয় তদারকি করবে রাজাপুর উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি ৮০% সম্পন্ন হয়েছে। আশাকরি নির্ধারিত সময়ের আগেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।

ঝালকাঠি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর তরুণ কর্মকার বলেন, কয়েক সপ্তাহ পরেই শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। এবছর ঝালকাঠি জেলায় ১৬৯ টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন কারিগররা। এরইমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতই শিল্পীর রং-তুলির ছোঁয়ায় মূর্ত হয়ে উঠবেন দেবী। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা মন্ডপে মণ্ডপে পাহারা দিচ্ছেন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সভাপতি, ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু জেলার পূজা প্রস্তুতির সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *