চরভদ্রাসনে আবার পদ্মা নদীর ভাঙ্গন শুরু

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর:
চার দিন বিরতি দিয়ে চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন আবার শুরু হয়েছে। হরিরামপুর ইউনিয়নের ছবুল্লা শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামে গত শুক্রবার বিকেল থেকে আবার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ফলে এই এলাকার দুটি বসভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যেতে শুরু করেছে। বসতভিটা ভেঙ্গে যাওয়ার শঙ্কায় বাসিন্দারা সরিয়ে নেওয়া ও গাছ কেটে নিতে শুরু করেছে।

ওই এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের ছবুল্লা শিকদারের ডাঙ্গীতে পদ্মা নদীর এ ভাঙ্গন শুরু হয়। শনিবার বিকেল পর্যন্ত এ ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গনের ফলে ছবুল্লা শিকদারের ডাঙ্গী সরকারীপ্রাথমিক বিদ্যালয় পদ্মানদী থেকে মাত্র ৩১ মিটার দূরে রয়েছে। এ ছাড়া বিলীনের পথে রয়েছে ওই গ্রামের মৃত শেখ আয়নালের ছেলে শেখলিটন (৪২) ও মৃত আমিরুদ্দীন দেওয়ানের ছেলেমানিক দেওয়ানের (৫৪) বসত ভিটা।

শেখ লিটন জানান, শনিবার সকালে পদ্মানদীর ভাঙ্গনের ফলে অন্তত ৬০ শতাংশ ফসলী জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

মানিক দেওয়ান জানান, এতো দিন দাতে দাত চেপে বসেছিলাম। কিন্তু নদীর ভাঙ্গন ক্রমেই বাড়ছে। আর এ জায়গায় থাকা নিরাপদ মনে করছিনা। তাহলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ডুইব মরতে হবে। তিনি বলেন, যে কোন মুহূর্তে বসত ভিটা চলে যেতে পারে, তাই সকাল থেকে ঘর বাড়ি ভাঙ্গা ও গাছ কাটার কাজ শুরু কইরা দিচ্ছি।

ওই গ্রামের বাসিন্দা সামছেল বেপারী (৫৬) জানান, তিনি একটি ঘর ভেঙ্গেছেন। নদীতে এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে তাদের দাঁড়ানোর আর কোন জায়গা থাকবে না।

হরিরামপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সালাম ফকির বলেন, ছবুল্লা শিকদারের ডাঙ্গী গ্রামে ৬০ টি পরিবার বসবাস করে। এরমধ্যে অধিকাংশই ইতপূর্বে নদী ভাঙ্গনের কবলে পরেছে। আবারও ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা নিঃস্ব একেবারে নিঃস্বতর হয়ে যাবে।

হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমীর হোসেন খান জানান, আর আড়ে ভাঙ্গন কবলিত ছবুল্লা শিকদারের ডাঙ্গী এলাকায় বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আবার ও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এ ভাঙ্গনের বিষয়টি ওইউএনও, জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, আজ রবিবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *