মাদারীপুরে পানির অভাবে পাট পচাতে পারছে না কৃষক, গোসল করার পুকুরে চলে পচানো-ধোয়ার কাজ

কে এম, রাশেদ কামাল, মাদারীপুর প্রতিনিধি:

পানির অভাবে পাট পচাতে পারছে না মাদারীপুর জেলার সদর থানার অধিকাংশ এলাকার কৃষক। গোসল করার পুকুরেই চলছে পচানো এবং ধোয়ার কাজ। সাধারণত আগস্ট মাসে গ্রামের মাঠ ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় গ্রামের কৃষকরা ক্ষেতের পাট কেটে জলাশয় বা ডোবার ভেতরে পচানোর জন্য তলিয়ে রেখে দেয়া হয়। ১০ থেকে ১২দিন পর পানিতে তলিয়ে রাখা পাট উঠিয়ে আঁশ ছড়ানো হয়। কিন্তু এই বছর আশানুরূপ পানি না হওয়ায় পাট চাষীরা পড়েছে বিপাকে।

সরেজমিন সদর থানার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা ক্ষেতের পাট কাটার পরে সেগুলো তলিয়ে রাখা এবং ধৌত করা নিয়ে পড়েছেন ভীষণ বিপাকে। এ বছর বর্ষার মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না হওয়ায় কৃষকেরা পাট পচাতে পারছে না। বাধ্য হয়ে তারা নিজেদের গোসল করা এবং পানি সংগ্রহ করার পুকুরে পাট তলিয়ে রাখছে এবং সেই পাট আবার একই পুকুরে ধৌত করছে। ফলে পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেছে এবং এক ধরনের দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে। পুকুরের দুর্গন্ধময় পাট পচানোর পানিতে গোসল করা এবং রান্না করার পানি সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

চর গোবিন্দপুর এলাকার পাটচাষী মোঃ আবুবকর কাজী এবছর ১৭৬ শতাংশ জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট নিয়ে তিনি পড়েছেন ভীষণ বিপাকে। তাই ক্ষেত থেকে পাট কেটে পানির অভাবে ঠিকমত পচাতে পারছেন না। তাই পুকুরেই পাট ধৌত করছেন তিনি। পর্যাপ্ত পানিতে ঠিকমতো পাট পচাতে না পারলে সোনালী আঁশ পাটের রঙ আর সোনালী থাকে না বরং রঙ কালো হয়ে যায়। রঙ ভাল না হলে দাম অনেক কম পাওয়া যায় বলে জানায় পাট চাষীরা।

পাট চাষী আবু বকর কাজী বলেন, ‘ এই বছর পানি অয় নাই, হেল্লেইগ্গা পুগুরে পাট জাগ দেই আবোর পুগুরেই ধুই।

একই এলাকার আরেক পাট চাষী মোঃ সাইদুল বাশার মাতুব্বর বলেন, ‘এই বছর আমি বাফু ৮৮ শতাংশ জমিনে পাট বুনছি। চকে পানি নাই, ঠিক মতোন জাগ দিতে পারতাছি না, ধুইতেও পারতাছি না। আমাগো কষ্টের অহন সীমা নাই।’

মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘এবছর যা বৃষ্টিপাত হয়েছে তাতে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে কিছু কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত খাল-বিল এবং পানি সংকটের কারণে কৃষকদের আসলেই আসলেই কষ্ট হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তারা যদি গোসল করার পুকুরেই পাট পচানো, ধৌত করা এবং সে পানিই যদি রান্নার কাজে ব্যবহার করে তবে এটি একটি চিন্তার বিষয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *