ফিলিস্তি-ইসরাঈল কিডনি বিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার:
ইসরায়েলের নাগরিক ইদিত হারেল সেগাল বিশেষ কিছু করে নিজের ৫০তম জন্মদিন উদযাপন করতে চেয়েছিলেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অপরিচিত কোনো মৃত্যুপথযাত্রীকে একটি কিডনি দান করবেন তিনি। কিডনি প্রয়োজন, এমন একজন মানুষ খুঁজে বের করতে এবং তাকে কিডনি দানের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্নে প্রায় ৯ মাস সময় লেগেছে সেগালের।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেষ পর্যন্ত কিডনির প্রয়োজন এমন কাউকে খুঁজে পান সেগাল। তার কিডনি গ্রহীতা হলো ফিলিস্তিনি এক শিশু; যে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব-সহিংসতার ইতিহাস কয়েক দশকের। সেগালের কিডনি নেয়া তিন বছরের ছোট্ট শিশুটি ইসরায়েল কর্তৃক অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বাসিন্দা। পেশায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক সেগাল নিজেকে একজন গর্বিত ইসরায়েলি বলে জানান। জন্মলগ্ন থেকে সীমান্ত নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক, সংঘাতে জড়িয়ে থাকা ইসরায়েলের এই নাগরিক উদারতার উদাহরণ দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন, তা পেরেছেনও।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের ইহুদিবিরোধী বর্বরতার শিকার প্রয়াত দাদার স্মৃতিতে উদ্দীপ্ত সেগাল। তাকে অর্থপূর্ণ জীবন গড়ে তোলার উপদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন দাদাই। বলেছিলেন, ইহুদি ধর্মের শিক্ষায় অন্যের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় কোনো দায়িত্ব হয় না। সেই উপদেশ আমলে নিয়েই কিডনিদাতা ও গ্রহীতাদের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন তিনি। এর মাধ্যমেই খোঁজ পান ফিলিস্তিনি শিশুটির।

ইসরায়েলি নাগরিকের সাহায্য দেয়া-নেয়া স্পর্শকাতর বিষয় বলে শিশুটির নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন তার মা-বাবা। এই কিডনি বিনিময় প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ে সহযোগিতা করেছে জেরুজালেমভিত্তিক বেসরকারি সাহায্য সংস্থা মাতনাত শাইম।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী শ্যারোনা শারম্যান জানান, গাজার শিশুটি ভীষণ অসুস্থ ছিল। তাকে বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইসরায়েলি দাতার কাছ থেকে কিডনি নেয়ার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে। শিশুটির সঙ্গে কিডনি ‘ম্যাচ’ না করায় নিজের কিডনি দিতে পারেননি বাবা।

তবে যেদিন সন্তানের দেহে এক ইসরায়েলির কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়েছে, সেদিনই ফিলিস্তিনি শিশুটির বাবাও নিজের কিডনি দান করেন ২৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি তরুণীকে। ওই তরুণীও দুই সন্তানের মা।

সৌজন্যে: এনবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *